আহমদ আনছারী, নিজস্ব প্রতিনিধি: ঐতিহ্য বজায় রেখে বাংলা নতুন বছরের প্রথম সকালে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ বের করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ। আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে চারুকলার সামনে থেকে এ শোভাযাত্রা শুরু হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে অংশ নিয়েছেন। সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীসহ হাজারো মানুষ শোভাযাত্রায় শামিল হন। শোভাযাত্রাটি রাজু ভাস্কর্য, দোয়েল চত্বর ও বাংলা একাডেমি হয়ে পুনরায় চারুকলায় এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় ছিল মোরগ, হাতি, পায়রা, দোতারা ও ঘোড়ার মোটিফ। এর মধ্যে মোরগ দিয়ে গণতান্ত্রিক উত্তরণের কথা তুলে ধরা হয়েছে।এ ব্যাপারে চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম শেখ জানান, “বাংলাদেশে গত ১৮ বছর এক ফ্যাসিবাদী শাসনতন্ত্রের মধ্যে ছিল। সেখান থেকে একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে এদেশ আবার গণতন্ত্রের দিকে যাত্রা করেছে। তাই যে নতুন ভোর, নতুন দেশ, নতুন গণতন্ত্রের সূর্য উদিত হয়েছে, তাকে শুভকামনা জানাতেই আমাদের প্রতীকী মোরগ।
আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, মোরগ যেমন আমাদেরকে প্রভাতে সূর্য ওঠার আগে জাগিয়ে দিয়ে শুভ কামনা জানায়, আমরাও এ দেশে গণতন্ত্রের পুনরুত্থানকে শুভকামনা জানাই। আমরা চাই, এদেশে আমার ন্যায়বিচার ফিরে আসুক।
প্রতিবারই চারুকলা অনুষদ সমসাময়িক নানা বিষয় তুলে ধরে আয়োজন করে শোভাযাত্রা, যা নববর্ষ উদ্যাপনের অন্যতম অনুষঙ্গ। এবার নববর্ষ উদ্যাপন হচ্ছে ‘নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান’ প্রতিপাদ্যে।
শোভাযাত্রায় এবার দোতারার মোটিফ যুক্ত করা প্রসঙ্গে অধ্যাপক আজহারুল ইসলাম বলেন, আপনারা জানেন, সারা দেশে বাউলদের ওপর নানা হামলার ঘটনা ঘটেছে। আমরা তার প্রতিবাদ জানাই। একই সঙ্গে এদেশে আমাদের যে লোকগান আছে, তা হারিয়ে যেতে বসেছে। সেই সংস্কৃতিকে জাগাতে আমাদের এ প্রতীকী আয়োজন।
তাছাড়া শান্তির প্রতীক হিসেবে পায়রা, দেশীয় সংস্কৃতির নিদর্শন হিসেবে নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের কাঠের হাতি এবং কিশোরগঞ্জের টেপা আকৃতির ঘোড়া তুলে ধরছে চারুকলা অনুষদ।