বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ইরান যুদ্ধের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে সতর্কবার্তা দিয়েছেন শীর্ষ উপদেষ্টারা। তাদের মতে, চলমান যুদ্ধ ট্রাম্পের পুরো মেয়াদের বাকি সময়জুড়ে চলতে পারে। এমনকি সংঘাত গড়াতে পারে ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত।
মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরান দীর্ঘদিন প্রতিরোধ বজায় রাখতে পারে বলে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন ভ্যান্স ও রুবিও। তবে এই প্রতিবেদনের জবাবে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন এবং বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌ-অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই কেবল জানেন তিনি কী করবেন এবং কখন করবেন।
উপদেষ্টাদের এই গোপন সতর্কতা ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। গত বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প দাবি করেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘ঠিক পরপরই’ ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তেহরান মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের মুখে তারা আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে আশ্বাস দেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা হতে পারে, কিন্তু এটি এমন কিছু নয় যা আমরা এই মুহূর্তে চাইছি।
ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার দাবি করেন, ইরান পরাজয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে দখল করা সিরিয়ার ভূখণ্ডের মাউন্ট হারমন চূড়ায় দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু বলেন, প্রধান কাজ হলো ইরানের সন্ত্রাসী শাসনকে পরাজিত করা। আমরা এর খুব কাছাকাছি আছি। আমরা জানি যে পুরো অক্ষটি অবশেষে ভেঙে পড়বে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরও বলেন, সিরিয়া বা লেবানন সীমান্তে কোনো ‘সন্ত্রাসী বাহিনীকে’ ঘাঁটি গাড়তে দেবে না ইসরায়েল। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরান বিরোধী এই যুদ্ধ শুরু হলেও এপ্রিলের পর থেকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি লড়াই কিছুটা কমে যায়। তবে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ইরানের তীব্র সংঘাত চলছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দ্রুত বিজয়ের দাবি উড়িয়ে দিয়ে ইরানও তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেন মোহেবি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানান, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, নতুন করে হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকা, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা, ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের ফ্রিজ করা ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) ডলার অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করা। তবে ইসরায়েল ইতোমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা লেবাননের বাফার জোন থেকে সরবে না এবং হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ছাড় দেবে না।
এই যুদ্ধ এরই মধ্যে সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি ওমান ও পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনী ৫টি ইরানি তেল ট্যাংকার ডুবিয়ে দেয়। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে আক্রমণ চালিয়েছে বলে দাবি করে। এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও মিসাইল হামলা চালায় আইআরজিসি। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ওই হামলায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্যাট্রিয়ট মিসাইল ছুড়েও শেষ রক্ষা হয়নি; অন্তত ৮টি এফ-১৫ বিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানের পুরো ডানা ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়।
সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এবং দেশের ভেতরে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে মার্কিন ভোটারদের তীব্র অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত হোয়াইট হাউসের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে
মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামরিক চাপ সত্ত্বেও ইরান দীর্ঘদিন প্রতিরোধ বজায় রাখতে পারে বলে ট্রাম্পকে জানিয়েছেন ভ্যান্স ও রুবিও। তবে এই প্রতিবেদনের জবাবে হোয়াইট হাউসের একজন মুখপাত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস করেছেন এবং বিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে শক্তিশালী নৌ-অবরোধ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিচ্ছেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই কেবল জানেন তিনি কী করবেন এবং কখন করবেন।
উপদেষ্টাদের এই গোপন সতর্কতা ট্রাম্পের প্রকাশ্য বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। গত বুধবার টেক্সাসের ডালাসে রিপাবলিকান ন্যাশনাল কনভেনশনে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প দাবি করেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ‘ঠিক পরপরই’ ইরান যুদ্ধ শেষ হয়ে যাবে। কারণ হিসেবে তিনি বলেন, তেহরান মার্কিন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপের মুখে তারা আর বেশিদিন টিকে থাকতে পারবে না। যুদ্ধ শেষ হলেই জ্বালানি তেলের দামও দ্রুত কমে আসবে বলে আশ্বাস দেন ট্রাম্প। ইরানের সঙ্গে কোনো কূটনৈতিক আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প বলেন, আলোচনা হতে পারে, কিন্তু এটি এমন কিছু নয় যা আমরা এই মুহূর্তে চাইছি।
ট্রাম্পের দাবির সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার দাবি করেন, ইরান পরাজয়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে। ২০২৪ সালের শেষের দিকে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে দখল করা সিরিয়ার ভূখণ্ডের মাউন্ট হারমন চূড়ায় দাঁড়িয়ে নেতানিয়াহু বলেন, প্রধান কাজ হলো ইরানের সন্ত্রাসী শাসনকে পরাজিত করা। আমরা এর খুব কাছাকাছি আছি। আমরা জানি যে পুরো অক্ষটি অবশেষে ভেঙে পড়বে।
বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু আরও বলেন, সিরিয়া বা লেবানন সীমান্তে কোনো ‘সন্ত্রাসী বাহিনীকে’ ঘাঁটি গাড়তে দেবে না ইসরায়েল। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে ইরান বিরোধী এই যুদ্ধ শুরু হলেও এপ্রিলের পর থেকে ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার সরাসরি লড়াই কিছুটা কমে যায়। তবে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে ইরানের তীব্র সংঘাত চলছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর দ্রুত বিজয়ের দাবি উড়িয়ে দিয়ে ইরানও তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র হোসেন মোহেবি ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানান, যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ওয়াশিংটনকে অবশ্যই বেশ কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে- যুদ্ধ সম্পূর্ণ বন্ধ করা, নতুন করে হুমকি দেওয়া থেকে বিরত থাকা, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা, ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের ফ্রিজ করা ২৪ বিলিয়ন (২ হাজার ৪০০ কোটি) ডলার অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করা। তবে ইসরায়েল ইতোমধ্যেই স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা লেবাননের বাফার জোন থেকে সরবে না এবং হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ছাড় দেবে না।
এই যুদ্ধ এরই মধ্যে সপ্তম মাসে প্রবেশ করেছে। সম্প্রতি ওমান ও পারস্য উপসাগরে মার্কিন বাহিনী ৫টি ইরানি তেল ট্যাংকার ডুবিয়ে দেয়। এর জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালির কাছে ১০টি জাহাজে আক্রমণ চালিয়েছে বলে দাবি করে। এছাড়া জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি মার্কিন বিমানঘাঁটিতেও মিসাইল হামলা চালায় আইআরজিসি। সিবিএস নিউজের তথ্যমতে, ওই হামলায় মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্যাট্রিয়ট মিসাইল ছুড়েও শেষ রক্ষা হয়নি; অন্তত ৮টি এফ-১৫ বিমান সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং একটি এ-১০ থান্ডারবোল্ট যুদ্ধবিমানের পুরো ডানা ভেঙে নষ্ট হয়ে যায়।
সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল ১০০ ডলার অতিক্রম করেছে। দীর্ঘায়িত যুদ্ধ এবং দেশের ভেতরে জীবনযাত্রার ব্যয় সংকটে মার্কিন ভোটারদের তীব্র অসন্তোষ তৈরি হওয়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার রেটিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত হোয়াইট হাউসের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে