সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন গ্রাহকরা

আপলোড সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০৪:৪৪:০৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৯-২০২৬ ০৪:৪৪:০৭ অপরাহ্ন
আহছান হাবিব, নিজস্ব প্রতিনিধি:  প্রত‍্যাশিত চাহিদা অনুসারে আজ সোমবার থেকে পাঁচটি ব্যাংক নিয়ে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়া শুরু হয়েছে। বহুদিন পর টাকা তুলতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করছেন আমানতকারীরা। তারা বলছেন, সবাই চাহিদামতো টাকা পেলে ব্যাংকটির প্রতি আস্থা বাড়বে।
একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।
আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেই চাহিদা অনুযায়ী টাকা তুলেছেন গ্রাহকরা। বিভিন্ন শাখা ঘুরে তা দেখেন ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবেদুর রহমান সিকদার। তিনি বলেন, নগদ অর্থের সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী টাকা উত্তোলন করতে পারবেন গ্রাহকরা। ইতোমধ্যে একীভূত পাঁচ ব্যাংককে পাঁচ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে আমানতের টাকা তোলার আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। আবেদন গ্রহণ চলমান রয়েছে।
মতিঝিলে বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তারা বলেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী কম টাকা তোলার আবেদন পড়েছেন। নতুন ব্যাংকের প্রতি আস্থা তৈরি হওয়ার কারণে অনেকেই পুরো টাকা তুলছেন না। প্রয়োজন অনুসারে তুলছেন। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে টাকা তোলার আবেদন জমা হচ্ছে। আবেদন এখনো জমা নেওয়া হচ্ছে। 
এ প্রসঙ্গে গ্লোবাল ইসলামী ব‍্যাংক মতিঝিল শাখার সিনিয়র অফিসার মারজিয়া নুসরাত বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর যারা (আমানতকারী) টাকা তোলার আবেদন করেছিল, আজ কেবল তারাই টাকা তুলছেন।
মারজিয়া নুসরাত বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর টাকা তুলতে আবেদন করেছিলেন ৪৫ জন। কিন্তু আজ ৩টা পযন্ত ১৬ জন গ্রাহক টাকা তুলেছেন। একই প্রসঙ্গে কথা বলেন এক্সিম ব‍্যাংক মতিঝিল শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। তিনি বলেন, প্রত‍্যাশিত চাহিদামতো গ্রাহক টাকা তুলছেন। বেশির ভাগই পুরো টাকা তুলছেন না। প্রয়োজন অনুসারে তুলছেন।
এদিকে সংকট কাটিয়ে শৃঙ্খলা ফেরাতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে আমানতের টাকা তোলার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রথমদিন গত ১ সেপ্টেম্বর থেকেই গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। দিন দিন সেই আগ্রহ বেড়েছে। অর্থ ফেরত পেতে গত মঙ্গলবার থেকে এখন পর্যন্ত ব্যাংকটির শাখাগুলোতে আবেদন নিয়ে ছুটোছুটিতে ব্যস্ত গ্রাহকরা।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে আবেদনের প্রথমদিনে ১৮ হাজারের বেশি গ্রাহক তাদের জমানো টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। যারা আবেদন করেছেন তারা এক হাজার ৩২৯ কোটি টাকা ফেরত চেয়েছেন। দ্বিতীয়দিনে ১৯ হাজার ৬১৩ জন আবেদন করেন এক হাজার ১৬ কোটি টাকার জন্য। তৃতীয়দিনে ২১ হাজারের বেশি আবেদনের পরিমাণ ছিল ৯২৩ কোটি টাকা। চতুর্থদিনে ১৫ হাজার ৪৭৬ জন ৬৫৭ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেছেন।
প্রাথমিকভাবে আমানতকারীরা তাদের পুরো মূলধন একবারে উত্তোলন করতে পারবেন। তবে পুরো টাকা তুলে নিলে উত্তোলন করা অর্থের ওপর কোনো মুনাফা পাবেন না। যারা হিসাব চালু রাখবেন, তাঁরা আগের চুক্তির শর্ত মতে মুনাফা পাবেন। আল-ওয়াদিয়াহ চলতি হিসাব, মুদারাবা সঞ্চয়ী হিসাব, এমটিডিআর, ডিপিএসসহ বিভিন্ন ধরনের আমানত এই টাকা ফেরত দেওয়ার সুবিধার আওতায় থাকবে। তবে মোট আমানতকারীর তুলনায় টাকা ফেরতের আবেদনকারীর সংখ্যা এখনও বেশ কম বলেও জানা গেছে।
ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তার মতে, তুলনামূলকভাবে কমসংখ্যক গ্রাহক টাকা ফেরতের আবেদন করায় ধারণা করা হচ্ছে, অধিকাংশ আমানতকারী নতুন ব্যাংকের সঙ্গে তাঁদের ব্যাংক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চাইছেন। তাই তাদের আমানতের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট সবকিছুই ব্যাংকের চুক্তির শর্ত অনুযায়ী পাবেন।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক ও প্রকাশক : 

নির্বাহী সম্পাদক : 

বার্তা সম্পাদক : 


অফিস :

অফিস : 

ইমেইল : 

মোবাইল :