ফিক্সিংয়ে পাঁচজনকে শাস্তি, অনিয়ম নিয়ে ক্ষুব্ধ তামিম

আপলোড সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ০৮:৫৬:৪২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৩-০৯-২০২৬ ০৮:৫৬:৪২ অপরাহ্ন
বাংলা রিলিজ, স্পোর্টস ডেস্ক:  বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সর্বশেষ আসর শেষ হয়েছে কয়েক মাস আগে। কিন্তু মাঠের ক্রিকেটের চেয়ে বেশি আলোচনা এখন মাঠের বাইরের অনিয়ম, ফিক্সিং অভিযোগ, ফ্র্যাঞ্চাইজি সংকট ও আর্থিক বিশৃঙ্খলা নিয়ে। সেই বিতর্কিত বিষয়গুলো নিয়েই এবার খোলামেলা কথা বলেছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল।
মিরপুরে আজ বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, জোড়াতালি দিয়ে আর বিপিএল আয়োজন করতে চায় না বিসিবি।
সংবাদ সম্মেলনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বিপিএলে ফিক্সিংয়ের অভিযোগে পাঁচজনকে শাস্তি দেওয়ার ঘটনা। তদন্তের সময় বোর্ডে না থাকলেও দায়িত্ব নেওয়ার পর পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করেছেন তামিম। তিনি জানান, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে প্রমাণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তামিম বলেন, ‘আমি প্রশ্ন করেছি আমাদের কাছে কি যথেষ্ট প্রমাণ আছে? আমি উত্তর পেয়েছি। আমি বলেছি এক্সিকিউট করেন।’
তবে শাস্তি পাওয়া ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাদের নাম এখনই জানাননি তামিম। পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানাবেন ফিক্সিংয়ে জড়িত ৫ নাম।
সবশেষ বিপিএলে সবচেয়ে বড় বিতর্কের একটি ছিল ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থাপনা। জানা যায়, দুটি দল কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই পুরো আসর খেলেছে। ব্যাংক গ্যারান্টির নির্ধারিত অর্থও পুরোপুরি জমা নেওয়া হয়নি। এমন ঘটনা বিসিবির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে মনে করেন তামিম।
এই প্রসঙ্গে তামিম বলেন, ‘দুইটা ফ্র্যাঞ্চাইজি একটা মৌসুম খেলে ফেলেছে অথচ চুক্তিই হয় নাই। এটাকে কী আপনি শুধু ভুল বলবেন? অবশ্যই, জবাবদিহিতা করতে হবে।’
এরপর সাবেক বোর্ড সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তামিম বলেন, ‘তাহলে উনাকে (আমিনুল ইসলাম বুলবুল) জবাবদিহিতা করতে হবে। সে কী কারণে ১০ কোটি টাকার জায়গায় ৩ কোটি টাকা নিয়েছেন। একটা দলকে ফ্র্যাঞ্চাইজি নিতে না করেছে তাও কেন দিয়েছে। এসবের উত্তর দিতে হবে।’
তবে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ নয়, বরং দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই তিনি এসব কথা বলছেন বলে ব্যাখ্যা দেন বিসিবি সভাপতি, ‘আমি কিন্তু কাউকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করতে চাই না। আপনি ফ্যাক্ট নিয়ে আলোচনা করছি। কেউ যদি ভুল করে থাকে তাকে জবাবদিহিতা করতে হবে। সে যেই হোক। আমি যদি এখন কোনো ভুল করে যাই তাহলে আমাকেও জবাবদিহিতা করতে হবে।’
বিপিএলের আর্থিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন তামিম। তার ধারণা, সর্বশেষ আসরে ১৪ থেকে ১৬ কোটি টাকার মতো লোকসান হয়েছে। বিপিএলে ফ্র্যাঞ্চাইজি বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘পুরোপুরি নিশ্চিত না আমি, তবে গত বিপিএলে ১৪-১৬ কোটি টাকা লস হতে পারে। দুর্ভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে আপনি কালকে সকালে ঘুম থেকে উঠেও ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক হতে পারবেন।’
গত দুই আসর ধরেই বিপিএলে নানা অনিয়ম সামনে এসেছে। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক বকেয়া, দল পরিচালনায় বিশৃঙ্খলা, ফিক্সিংয়ের অভিযোগ-সব মিলিয়ে দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমন বাস্তবতায় বিপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়েও স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন তামিম, ‘আমি জোড়াতালি দিয়ে বিপিএলের মতো টুর্নামেন্ট করব না। আমরা যদি ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাই, তাহলে আমরা মনে হয় না বিপিএল করা উচিত। শুধু করার জন্য বিপিএল করার থেকে না করাই ভালো। আমি সবসময় বিশ্বাস করি নিয়মিত বিপিএল হওয়া উচিত। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি।’
দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের ভুলেরও জবাবদিহিতা থাকা উচিত বলে মনে করেন তামিম। ইচ্ছাকৃত ভুলকে তিনি অপরাধ হিসেবেই দেখছেন, ‘আমি যদি কোনো কিছু করি, যার কারণে বিসিবি ভোগান্তিতে পড়ে তাহলে আমাকে ধরতে হবে। আপনি ভুল করতেই পারেন। তবে জেনেশুনে যখন আপনি ভুল করেন তখন সেটা ক্রাইম।’
সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাও স্বীকার করেন যে, বোর্ডের কিছু সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। তিনি জানান, সিলেট ও নোয়াখালী-এই দুটি দল আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই আসরে অংশ নেয়। এছাড়া চট্টগ্রাম রয়্যালসের দায়িত্বও পরে বিসিবিকে নিতে হয়। ভবিষ্যতে যেন ক্রিকেটাররা এমন অনিশ্চয়তায় না পড়েন, সেজন্য কোয়াবের সঙ্গে আলোচনা করে নতুন দিকনির্দেশনা তৈরির কথাও জানান তিনি।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক ও প্রকাশক : 

নির্বাহী সম্পাদক : 

বার্তা সম্পাদক : 


অফিস :

অফিস : 

ইমেইল : 

মোবাইল :