হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড করার হুমকি ট্রাম্পের

আপলোড সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ১২:০৩:২১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৫-০৮-২০২৬ ১২:০৩:২১ অপরাহ্ন
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  ইরানকে যুদ্ধে পরাজিত করার পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নিউইয়র্কের নাসাও জেলা পুলিশ একাডেমির অনুষ্ঠানে এ ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করার পর, বলা ভালো খুব খারাপভাবে পরাজিত করার পর, শিগগিরই আমি হরমুজ প্রণালিকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব। এই বিশ্বের জন্য আমরা কত বড় একটা কাজ করতে যাচ্ছি, তা অবশ্যই আপনাদের স্মরণে রাখতে হবে; এবং শুধু আপনাদেরই নয়, পুরো বিশ্বাবাসীকে তা স্মরণে রাখতে হবে।
ইরানের বন্দরগুলোতে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে যে অবরোধ জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্র, তা অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও বলেছেন, এই অবরোধ থামবে না। এটা ইস্পাতের দেওয়াল।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে সামরিক অভিযান শুরু করে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনী। এর মধ্যে দিয়েই শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ।
যুদ্ধের প্রথম দিনই হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিদেশি জাহাজের চলাচলে অবরোধ জারি করেছিল ইরান। এর পাল্টা জবাব হিসেবে এপ্রিলে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করে যুক্তরাষ্ট্রও।
প্রায় ৩ মাস পর ১৭ জুন ইসলামাবাদ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান; কিন্তু গত ৫ জুলাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে আইআরজিসি হামলা করার পর ফের উস্কে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত এবং ১৩ জুলাই ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে গিয়ে হরমুজে ফের অবরোধ জারি করে তেহরান। জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর পাল্টা অবরোধ জারি করে। এখন পর্যন্ত এই অবস্থাই চলছে।
হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে বর্তমানে ইরানের অবস্থান হলো, এই প্রণালি দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করতে পারবে না এবং এ দু’দেশের বাইরে যেসব দেশের জাহাজ এই প্রণালি ব্যবহার করবে, তাদেরকে অবশ্যই ইরানের ইসলামি প্রজাতান্ত্রিক সরকারকে টোল দিতে হবে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অবশ্য এর আগে একবার বলেছিলেন যুদ্ধে ইরানকে পরাজিত করার পর হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবক’ হবে যুক্তরাষ্ট্র এবং এই প্রণালি থেকে টোল আদায় করবে। গত ১৩ জুলাই ইরান ইসলামাবাদ সমঝোতা চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্য জলপথ হরমুজ প্রণালির ‘অভিভাবকের’ ভূমিকায় থাকবে এবং এই প্রণালি দিয়ে চলাচলরত বাণিজ্যিক জাহাজগুলো থেকে ২০ শতাংশ টোল আদায় করবে। তবে পরে এই ঘোষণা থেকে সরে এসেছিলেন তিনি।
এদিকে শুক্রবার নিউইয়র্কে ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান। দেশটির উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদি মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সংস্থা এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় লিখেছেন, ইরান হুমকিতে ভয় পায় না, শক্তি প্রদর্শনেও তাকে ভয় দেখানো যায় না।হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে। এ প্রণালি শুধুমাত্র ইরানের নির্দেশেই বন্ধ ও খোলা হবে এবং যতক্ষণ না আপনারা আপনাদের পরাজয়ের বাস্তবতা মেনে নিচ্ছেন ও আপনাদের অলীক কল্পনা ত্যাগ করছেন, ততক্ষণ ইরান (হরমুজের উপর) অবরোধ জারি রাখবে।

 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক ও প্রকাশক : 

নির্বাহী সম্পাদক : 

বার্তা সম্পাদক : 


অফিস :

অফিস : 

ইমেইল : 

মোবাইল :