হবিগঞ্জে তীব্র গ্যাস সংক ট ,উৎপাদন ব্যাহত

আপলোড সময় : ১৪-০৮-২০২৬ ০৭:৪৭:২৭ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৮-২০২৬ ০৭:৪৭:২৭ অপরাহ্ন
আহমদ আনছারী, নিজস্ব প্রতিনিধি:   হবিগঞ্জের অধিকাংশ শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত প্রায় ১৫ দিন ধরে চাহিদার তুলনায় কম গ্যাস পাওয়ার পর বুধবার (১২ আগস্ট) রাত থেকে জেলার অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।
এতে কারখানাগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একই সঙ্গে গ্যাসচালিত ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় অনেক প্রতিষ্ঠানে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে।
জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের (জেজিটিডিএসএল) তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ছোট-বড় ১৭১টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগের অনুমোদন রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ৯৯টি কারখানায় নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
শাহজীবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক মো. খালেদ গনি জানান, শাহজীবাজার অঞ্চলের আওতায় মোট ৮৩টি শিল্পকারখানা রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৫৮ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু গত ১২ আগস্ট মাত্র ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সরবরাহ আরও কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় কারখানাগুলোতে গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, হবিগঞ্জের অধিকাংশ শিল্পপ্রতিষ্ঠান রপ্তানিমুখী। এর মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান সরাসরি শতভাগ রপ্তানি করে, আবার কিছু প্রতিষ্ঠান আংশিকভাবে রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত। এসব কারখানার বড় একটি অংশ গ্যাসচালিত ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের মাধ্যমে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনও বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
হবিগঞ্জের যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মহাব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) আবুল হোসেন জানান, পার্কটিতে ছয়টি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি প্রতিষ্ঠানই শতভাগ রপ্তানিমুখী। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১২ হাজার মানুষ কর্মরত। কারখানাগুলোর দৈনিক অনুমোদিত গ্যাসের চাহিদা ১৩ দশমিক ৬ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু গত কয়েক দিন ধরে সেখানে মাত্র ৩ স্ট্যান্ডার্ড মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছিল। বুধবার রাত ১২টার পর সেটিও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
আবুল হোসেন আরও বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকায় এরই মধ্যে কারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছিল। এখন সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হওয়ায় উৎপাদন কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এতে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মসংস্থানসহ রপ্তানি কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম টার্মিনাল দিয়ে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের ক্ষেত্রেও সমস্যা দেখা দিয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় এলএনজিবাহী জাহাজ নোঙর ও খালাসে বিঘ্ন ঘটছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায়।
এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকলে শিল্প উৎপাদন, রপ্তানি আয় ও কর্মসংস্থানে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন।

 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক ও প্রকাশক : 

নির্বাহী সম্পাদক : 

বার্তা সম্পাদক : 


অফিস :

অফিস : 

ইমেইল : 

মোবাইল :