পদার্থবিজ্ঞানের দুটি ভুল প্রশ্নে পূর্ণ নম্বর পাবে,ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে : শিক্ষামন্ত্রী

আপলোড সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০৬:১২:০৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৪-০৭-২০২৬ ০৬:১২:০৯ অপরাহ্ন
শাহিনুর আক্তার, ষ্টাফ রিপোটার :   চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের দুটি ভুল প্রশ্নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। আজ মঙ্গলবার (১৭ জুলাই) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এ কথা বলেন।  
এদিন বিকেল ৩টায় ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।
সম্পূরক প্রশ্ন করতে গিয়ে রুমিন ফারহানা বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা চলছে। গত তিন-চার দিন ধরে আবহাওয়ার যে অবস্থা, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বড় বড় শহরগুলো পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছে। আমাদের শিক্ষার্থীরা অনুরোধ করেছিল পরীক্ষা একটু পেছানোর জন্য, কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। যে কারণে আজ (মঙ্গলবার) আন্দোলন হচ্ছে, ঢাকায় আন্দোলন হচ্ছে। মন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখছি—এইচএসসির মতো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা, যার ওপর নির্ভর করে ছেলে বা মেয়ের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাবে, সেরকম একটি পরীক্ষায়, ফিজিক্সের (পদার্থবিজ্ঞান) মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে। মন্ত্রী কি দয়া করে বলবেন, কী সমস্যা ছিল পরীক্ষাটি একদিন বা দুদিনের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার?
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, পদর্থবিজ্ঞান বিষয়ের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস আগে। প্রশ্নের মডারেশন আগেই সম্পন্ন হয়েছিল। আপনারা জানেন, প্রশ্ন মডারেশনের প্রক্রিয়া দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। আমরা এসে নতুন করে কোনো প্রশ্ন প্রস্তুত করতে পারিনি। বিগত সরকারের সময় যারা মডারেটর ছিলেন, তারাই এই প্রশ্নপত্র প্রস্তুত করেছেন। তবুও আমরা তাৎক্ষণিক ঘোষণা দিয়েছি, পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের দুটি প্রশ্ন (৬ ও ৭) ভুল হয়েছে, সেখানে আমরা পূর্ণ মার্ক দিয়ে দেব।

ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পুনঃপরীক্ষা নেওয়া হবে, শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস

বৈরী আবহাওয়ায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলমান রাখার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বন্যার পানির কারণে পরীক্ষা দিতে সমস্যা হয়েছে, সেখানে পুনঃপরীক্ষার চিন্তা করবে সরকার।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা বিষয়টি আবারও পর্যালোচনা করছি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় পরীক্ষা দিতে না পারা নিয়ে জরিপটা আমাদের কাছে আসার পর আমরা প্রয়োজনে আবারও পরীক্ষা নিতে পারি। আমরা চট্টগ্রাম বোর্ডেও সেই ব্যবস্থা করেছি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করব—যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যান। আমরা তাদের (শিক্ষার্থীদের) চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন কীভাবে পরীক্ষা সঠিকভাবে নেব এবং এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব।
মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা সবাই উদ্বিগ্ন এই বর্ষার সিজনে পরীক্ষা নিয়ে। আমরা অবিরাম মনিটরিংয়ে ছিলাম, আছি, সারা দিনই আমরা এই কাজটি করে থাকি। সেখানে আমরা যদি দেখি কোনো কোনো কেন্দ্রে যদি পনি উঠে থাকে, আমরা তাৎক্ষণিক কেন্দ্র সরিয়ে দিই। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ স্থানীয় প্রতিনিধিদের সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এ যাবৎ একটি কলেজ, শুধু কুমিল্লা সরকারি কলেজের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। কারণ কলেজের মাঠ ডুবে গিয়েছিল। এ ছাড়া অন্যান্য যেসব জায়গায় পানি উঠেছে, সেটা তেমন বেশি নয়। তবুও সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্র পরিবর্তন করা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের যেসব সুবিধা দেওয়ার কথা, সেটা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যপারে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। আমরা প্রতিনিয়ত মনিটরিং করেছি।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, এ ক্ষেত্রে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের শুধরিয়ে দেওয়া আমাদের জন্য বিরাট কাজ নয়। আমরা অনেক জায়গায় পরীক্ষা বন্ধ করেছি এবং আমাদের প্রশ্নপত্র রয়েছে, আমরা আবার তাদের পরীক্ষা নেব।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, আমি আবারও আশ্বাস দিচ্ছি, যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে এমন ভুলত্রুটি হয়েছে সেখানে পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা আমাদের ভবিষ্যৎ, কোনোভাবেই আমরা তাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারি না।
 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক ও প্রকাশক : 

নির্বাহী সম্পাদক : 

বার্তা সম্পাদক : 


অফিস :

অফিস : 

ইমেইল : 

মোবাইল :