ঢাকা , শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবাইকে মাইরা ফেলছি,আমারে আর পাবি না : ফোরকান 

আপলোড সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ০৬:০৭:০৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ০৬:০৭:০৮ অপরাহ্ন
সবাইকে মাইরা ফেলছি,আমারে আর পাবি না : ফোরকান  ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ ডেস্ক:   গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে বহুতল একটি বাড়ি থেকে এক নারী, তার তিন সন্তান ও নারীর ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক।  
আজ শনিবার (৯ মে) সকালে ফোরকান নিজে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বজনদের কল করে জানান।
রাউৎকোনা গ্রামের মো. মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের রসুল মিয়া (২২)।
ফোরকানের পরিবার প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। ফোরকান প্রাইভেট কার চালাতেন। আর তার শ্যালক রসুল গাজীপুর সদরের একটি কারখানায় চাকরি করতেন।
নিহত শারমিন আক্তারের ফুফু জেসমিন আক্তার বলেন, তিনি স্বজনদের কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। তার ভাষ্য, ভাতিজির স্বামী কল করে নিজেই হত্যার কথা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এসে দেখেন, ঘরের বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে।
জেসমিন আক্তার বলেন, রসুল মিয়া অন্য জায়গায় চাকরি করতেন। শুক্রবার (৮ মে) ফোরকান মিয়া তাকে নতুন চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে আনেন। এরপর স্ত্রী–সন্তানের সঙ্গে রসুল মিয়াকেও হত্যা করে পালিয়ে যান ফোরকান।
শারমিনের আরেক ফুফু ইভা আক্তার বলেন, ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মাইরা ফেলছি। আমারে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে তারা পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে তারা মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা কাপাসিয়া থানায় রওনা হন।
তিনি বলেন, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ চলছিল। শারমিন স্বামীকে জানিয়েছিলেন, তার সন্তানদের নিয়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তাই স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান। এর মধ্যেই আজ পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া গেল।
ইভা আক্তার আরও বলেন, আমার ভাতিজিসহ বাকি সবাইকে ফোরকান মিয়া হত্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।
এদিকে ঘরের ভেতর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। কপিটিতে কোনো সই নেই। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩ মে ফোরকান মিয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তার স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, শ্বশুর তার স্ত্রীর মাধ্যমে কয়েক দফায় তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্ত্রী তার এক স্বজনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও অন্যরা মিলে তাকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করেন।
অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে আজ বেলা একটার দিকে গোপালগঞ্জ সদর থানার দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলেও কেউ ধরেননি।
নিহত শারমিন আক্তারের চাচা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আমাদের জানামতে ফোরকান সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মনে হয়, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন অভিযোগ লিখেছে।
এ বিষয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। ঘরের ভেতরে অনেক আলামত ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ করবে। আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকাল ছয়টার দিকে ফোরকান তার গ্রামের বাড়িতে একজনকে কল করে জানিয়েছেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তথ্য যাচাই–বাছাই চলছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ