২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনা বটমূলে বোমা হামলার বিচার
আপলোড সময় :
১৪-০৪-২০২৬ ১২:০৭:৪০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৪-০৪-২০২৬ ১২:০৭:৪০ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
আহমদ আনছারী, নিজস্ব প্রতিনিধি: রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে নৃশংস বোমা হামলার পঁচিশ বছরে পার হলেও এখনো শেষ হয়নি এ ঘটনায় বিস্ফোরক মামলার কার্যক্রম।
২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ মুহুর্মুহু বিস্ফোরণে রূপ নেয় শোকাবহ ঘটনায়। ওই হামলায় প্রাণ হারান ১০ জন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলার একটির বিচার এখনও শেষ হয়নি। হত্যা মামলার রায় এক দশক আগেই হলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি চার বছর ধরে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির পর্যায়ে আটকে আছে।
রমনা বটমূলের ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার রায় হয় হামলার ১৩ বছর পর। এতে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে একই ঘটনায় দায়ের করা বিস্ফোরক মামলার বিচারকার্য এখনও শেষ হয়নি। মামলাটি বর্তমানে ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির পর্যায়ে রয়েছে এবং মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-এ বিচারাধীন।
মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ২১ মার্চ এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ওইদিনই আদালত ৩৪২ ধারায় আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের ২৮ জুলাই মামলাটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ২০২৩ সালের ৩ জানুয়ারি এটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-এ পাঠানো হয়। এরপর চার বছরের বেশি সময় ধরে মামলাটি একই পর্যায়ে রয়েছে।
সর্বশেষ, গত ৩১ মার্চ আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য দিন ধার্য থাকলেও কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে হাজির করা হয়নি। এ কারণে মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-এর বিচারক তাওহীদা আক্তার আগামী ৯ জুলাই পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন।
অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। এতে আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন, পরে হাসপাতালে মারা যান আরও একজন। ওই ঘটনায় রাজধানীর নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির সার্জেন্ট অমল চন্দ্র রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার প্রায় আট বছর পর ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে অভিযোগপত্র দেয়। তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন, সম্পূরক অভিযোগপত্র ও সাক্ষ্যগ্রহণে বিলম্বসহ নানা কারণে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হয়। ২০০৯ সালে মামলা দুটি বিচারের জন্য আদালতে পাঠানো হলেও বিস্ফোরক মামলাটি এখনও নিষ্পত্তি হয়নি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স