ভারতের বিপক্ষে ফের হারের লজ্জা, ৮১ গুটিয়ে গেল বাংলাদেশ
আপলোড সময় :
২০-০৯-২০২৬ ০৫:১২:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-০৯-২০২৬ ০৫:১২:৩১ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, স্পোর্টস ডেস্ক : একটু আগে যেটি ব্যাটিং সহায়ক উইকেট ছিল, বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নামতেই সেটি হয়ে গেল বোলিং সহায়ক উইকেট। নির্বিষ বোলিংয়ের পর যে ব্যাটিংটা বাংলাদেশের করতে হতো, তার ধারেকাছেও যেতে পারল নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। প্রায় দুইশ ছোঁয়া রান তাড়া করতে নেমে গুটিয়ে গেল মোটে ৮১ রানেই। ভারতের একজন ব্যাটারের রানও করতে পারেনি পুরো বাংলাদেশ মিলে।
আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাপানের কারোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমসের সেমিফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৫ রান করে ভারত। জবাব দিতে নেমে ১৫.৪ ওভারে গুটিয়ে যাওয়ার আগে বাংলাদেশ করতে পেরেছে মোটে ৮১ রান। ১১৪ রানের বড় ব্যবধানে হেরে বিদায় নিল টুর্নামেন্ট।
এ নিয়ে ১০ দিনের মধ্যে দু’বার ভারতের কাছে সেমিফাইনালে হারল বাংলাদেশ। গত ১০ সেপ্টেম্বর নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে ভারতের কাছে ৪২ রানে হেরে বিদায় নিয়েছিল বাংলাদেশ। এবারের হারটা আরও বিব্রতকর।
বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই মানসিক চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। লড়াইটা পর্যন্ত করতে পারেনি তারা। পুরো ইনিংসে দুই অঙ্কের ঘর স্পর্শ করতে পেরেছেন মোটে তিনজন ব্যাটার। বাংলাদেশের ইনিংসে সর্বোচ্চ ২৭ রান এসেছে ওপেনার দিলারা আক্তারের ব্যাট থেকে।
ছয় নম্বরে নামা শারমিন আক্তার ২০ বল খেলে করেছেন মোটে ১০ রান। আর শেষদিকে ব্যাটিংয়ে নেমে সুলতানা খাতুন অপরাজিত ছিলেন ৮ বলে ১২ রান করে। এর বাইরে আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি।
বাংলাদেশের ব্যাটিং ধসের শুরুটা হয় ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের আউট হওয়ার মধ্য দিয়ে। এরপর একে একে সেই মিছিলে যোগ দেন বাকি ব্যাটাররা। পাওয়ার প্লেতে পঞ্চাশ পেরোনোর আগেই ফেরেন তিন ব্যাটার। এর মধ্যে ছিলেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও (৯ বলে ৯)। তাঁকেও দেখা যায় দায়িত্বহীন শট খেলতে।
যাওয়া-আসার মিছিল শেষে বাংলাদেশ থামে ১৫.৪ ওভারে। স্কোরবোর্ডে যোগ হয় মোটে ৮১ রান।
ভারতের হয়ে সমান তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন নন্দিনি শর্মা ও দীপ্তি শর্মা। দুটি উইকেট গেছে শ্রী চারানির ঝুলিতে।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ভারতকে উড়ন্ত শুরু এনে দেন দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা। পাওয়ার প্লের মধ্যেই ৭২ রান তুলে ফেলেন তারা। পাওয়ার প্লের শেষ বলে মান্ধানা ফিরলে ভাঙে এই জুটি। নাহিদা আক্তারের বলে সোবহানা মোস্তারিকে ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৯ বলে ৩৭ রান করেন মান্ধানা।
এরপর দ্রুতই দ্বিতীয় উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। তিন নম্বরে নামা গুনালান কামালিনিকে ফেরান সানজিদা আক্তার মেঘলা। ১০ বলে মোটে ৩ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর আবারও বাংলাদেশের ওপর চড়াও হয় ভারত।
আগে থেকেই আক্রমণাত্মক শেফালিকে সঙ্গ দিতে এসে চড়াও হন ভারতীয় অধিনায়ক হারমানপ্রীত কৌরও। এই দুজন মিলে বেশ খানিকটা শাসন করেন বাংলাদেশি বোলারদের। সেই সুযোগটা অবশ্য করে দিয়েছিলেন ফিল্ডাররাও। হারমানপ্রীতকে ফিরিয়ে ৯৪ রানের এই জুটি ভাঙেন স্পিনার রাবেয়া খান। ৩৩ বলে ৪০ রান করে ফেরেন তিনি।
বাকিরা ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের বোলারদের ওপর চড়াও হন শেফালি। ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ৪৯ বলে ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। ৩টি চার ও ৯টি ছক্কায় সাজানো ছিল তার ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে সমান একটি করে উইকেট নেন মারুফা আক্তার, মেঘলা, রাবেয়া খান ও নাহিদা আক্তার।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স