ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপরাধের ধরন ও সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আইনি সংস্কার প্রয়োজন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৭:৪৩:৪২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০৭:৪৩:৪২ অপরাহ্ন
অপরাধের ধরন ও সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আইনি সংস্কার প্রয়োজন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ
তোফােয়েল আহমেদ,  নিজস্ব প্রতিনিধি:  অপরাধের ধরন সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হওয়ায় নতুন অপরাধ মোকাবিলায় প্রয়োজন অনুযায়ী আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংশোধনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
আজ বুধবার (১৬সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ সবসময় কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায় না। কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইনের দুর্বলতা থাকলে গ্রেপ্তারের পরও আসামির দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অপরাধের ধরন ও সময়ের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে আইনি সংস্কার প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বর্তমানে বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জুয়া ও মাদকের সংশ্লিষ্টতা দেখা যাচ্ছে। শুধু অপরাধ সংঘটনের পর গ্রেপ্তার ও শাস্তির ব্যবস্থা করলেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। অপরাধের পেছনে থাকা মূল কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলায় গুরুত্ব দিতে হবে।
অপরাধকে একটি উপসর্গ হিসেবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধের দৃশ্যমান ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। সেই কারণ শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অপরাধ কমানো সম্ভব। জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এর সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য অপরাধও কমতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এসব অপরাধ তদন্তে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
পুলিশের সাইবার সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট ও ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বিভাগীয় পর্যায়ের পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও এ ধরনের ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। থানা ও উপজেলা পর্যায়েও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার পরিকল্পনার কথা জানান মন্ত্রী।
ক্রাইম রিপোর্টারদের নিরাপত্তা ও সহযোগিতার বিষয়েও বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক ঝুঁকির মুখে পড়লে সরকারি উদ্যোগ কিংবা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) কার্যক্রমের মাধ্যমে সহযোগিতার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, ক্রাইম রিপোর্টিং অনেকাংশেই অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত এবং এ কাজে সাংবাদিকদের নানা ধরনের ঝুঁকি নিতে হয়। অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়ানো প্রয়োজন।
ঝুঁকিপূর্ণ ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ক্রাইম রিপোর্টারদের সনদ দেওয়ার বিষয়টিও যাচাই করে দেখার কথা জানান তিনি।
সাংবাদিকদের সামাজিক দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা তৈরিতেও গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আইন প্রণয়ন, প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা ও গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকার মাধ্যমে অপরাধ মোকাবিলা আরও কার্যকর করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ সরকারি কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ