কীসের যুদ্ধবিরতি? পাল্টাপাল্টি হামলা আগুন জ্বলছেই মধ্যপ্রাচ্যে
আপলোড সময় :
০৯-০৪-২০২৬ ০১:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
০৯-০৪-২০২৬ ০১:০৩:৫৪ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং যুদ্ধবিরতির মাঝেই নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলায় পুরো অঞ্চল আরও অস্থির হয়ে উঠেছে। একদিকে লেবাননে তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল, অন্যদিকে সৌদি আরব থেকে এসেছে ইরানের হামলার খবর।
ইসরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হলেও লেবাননকে সেই চুক্তির অংশ তারা মনে করে না। এরপরই দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে একাধিক স্থানে শতাধিক বোমা ফেলা হয়। এতে অন্তত ৮৯ জন নিহত এবং কয়েক শ মানুষ আহত হয়েছেন বলে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি এই হামলাকে ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইসরায়েলের এই অবস্থান যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। ইরানও আগেই সতর্ক করেছিল, লেবাননে হামলা চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। ফলে শুরু থেকেই এই সমঝোতা ভঙ্গুর হয়ে ওঠে।
এরই মধ্যে সৌদি আরবেও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনে হামলার অভিযোগ উঠেছে ইরানের বিরুদ্ধে। জ্বালানি খাতের একটি সূত্র জানায়, বর্তমানে এই পাইপলাইনই সৌদি আরবের প্রধান তেল রপ্তানি পথ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল এই পথে ইয়ানবু বন্দরে নেওয়া হচ্ছিল। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এটি দেশটির তেল রপ্তানির ‘লাইফলাইন’ হয়ে ওঠে।
এই হামলার ফলে তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট তীব্র আকার নিতে পারে।
একই সময়ে উপসাগরীয় অন্যান্য দেশেও হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কুয়েত জানিয়েছে, তাদের তেল স্থাপনা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি শোধনাগার ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত বলেছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মোকাবিলা করছে। বাহরাইন জানিয়েছে, সিত্রা এলাকায় হামলায় ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এদিকে ইরান দাবি করেছে, তারা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে পুরো অঞ্চলে একাধিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে ইয়ানবুতে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর তেল স্থাপনাও রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। পাশাপাশি ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকেও ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা ঘটছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
লেবানন সীমান্তেও উত্তেজনা বাড়ছে। দক্ষিণ লেবানন থেকে উত্তর ইসরায়েলের দিকে রকেট ছোড়া হয়েছে, যা সাধারণত হিজবুল্লাহর নিয়ন্ত্রিত এলাকা থেকে হয়ে থাকে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের ধারণা। এতে সীমান্ত অঞ্চলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং ইসরায়েল–হিজবুল্লাহ সংঘাত আবারও জোরালো হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিস্থিতির আরেকটি বড় দিক হলো হরমুজ প্রণালি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে বিশ্বের বড় অংশের তেল পরিবহন হয়। যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে এটি খোলার আলোচনা থাকলেও বাস্তবে এখনো স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফেরেনি। ফলে জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির বদলে আরও জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক অবস্থান, ইরানের পাল্টা হামলা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে বিস্তৃত সংঘাত—সবকিছু মিলিয়ে পুরো অঞ্চল এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগোচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স