ভারত সফর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করে : দীনেশ ত্রিবেদী
আপলোড সময় :
০২-০৯-২০২৬ ০৪:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০২-০৯-২০২৬ ০৪:৪৫:৩৭ অপরাহ্ন
ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
আহমদ আনছারী, নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অত্যন্ত বুদ্ধিমান ও জনবান্ধব ব্যক্তি উল্লেখ করে সম্ভাব্য ভারত সফর প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এ বিষয়টি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত ও এখতিয়ারের ওপর নির্ভর করে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের উদ্দেশ্য যদি জনকল্যাণমুখী হয়, তাহলে ইতিবাচক ফলাফল আসবে বলে আমি আশাবাদী।
আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে দীনেশ ত্রিবেদী এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ‘ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যরা দলীয় অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে একটি বন্ধুত্ব গ্রুপের মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতে পারেন। এর মাধ্যমে দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং ‘পিপল-টু-পিপল’ যোগাযোগের ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। ‘টেম্পল অব ডেমোক্রেসি’ হিসেবে পরিচিত জাতীয় সংসদ ভবনে এসে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করছি। সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে সংসদে। ভারত ও বাংলাদেশসহ যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশেই সাধারণ মানুষ সংসদের দিকে তাকিয়ে থাকে।
হাইকমিশনার জাতীয় সংসদ ভবনের স্থাপত্য ও প্রাকৃতিক পরিবেশের প্রশংসা করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভবনটি অত্যন্ত সুন্দর। এর চারপাশের জলাধার ও প্রাকৃতিক পরিবেশ আমাকে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘হোয়্যার দ্য মাইন্ড ইজ উইদাউট ফিয়ার অ্যান্ড দ্য হেড ইজ হেল্ড হাই’—এই ভাবনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে তার বৈঠকের কথা উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, উভয়ের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। এ সময় বাংলাদেশের সংসদ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে কীভাবে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে সকালে তার কথা হয়েছে। বাংলাদেশের স্পিকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ওম বিড়লা। একই সঙ্গে বাংলাদেশের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে ভারত সফর এবং ভারতের ‘টেম্পল অব ডেমোক্রেসি’—সংসদ ভবন পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানানো হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রস্তাবিত ফ্রেন্ডশিপ গ্রুপে দুই দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সংসদ সদস্যরা দলীয় বিভাজন অতিক্রম করে অংশ নিতে পারেন। রাজনীতি নিজ নিজ পথে চলবে, তবে সংসদ হচ্ছে জনগণের প্রতিনিধিত্বের প্রতিষ্ঠান।
দুই দেশের সংসদের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগকে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, ভারতের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
সংসদ ডিজিটাইজেশনের বিষয়েও সাংবাদিকদের অবহিত করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের সংসদের লাইব্রেরিসহ সংসদীয় কার্যক্রমের বিপুল তথ্য ডিজিটালাইজড করা হয়েছে। ফলে সংসদ সদস্যরা স্মার্টফোনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নথি, অধিবেশনের কার্যসূচি ও পুরোনো বক্তব্য সহজেই দেখতে পারেন। কোনো নির্দিষ্ট তারিখ, বিষয় বা ব্যক্তির বক্তব্য খুঁজতে একটি বোতাম চাপলেই তা পাওয়া সম্ভব।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স