ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬ , ৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানুষ যেন এনবিআরকে ভয় নয়, বিশ্বাস করে: প্রধানমন্ত্রী

আপলোড সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০৩:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৮-০৮-২০২৬ ০৩:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন
মানুষ যেন এনবিআরকে ভয় নয়, বিশ্বাস করে: প্রধানমন্ত্রী ফাইল ছবি
আহমদ আনছারী, নিজস্ব প্রতিনিধি:  জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আরও জনবান্ধব, দক্ষ ও আধুনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়।
আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ‘রাজস্ব সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উদ্যোগে এনবিআর এ সম্মেলনের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনবিআরের কার্যক্রম ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার নীতি-পদ্ধতি নিয়ে তিনি কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনেছেন। তবে এ সম্মেলনকে সাধারণ কোনো সম্মেলন হিসেবে দেখেন না তিনি। সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের সফলতা অনেকাংশে এনবিআরের কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল। তাই এ সম্মেলন আগামী দিনে এনবিআরের আরও সাফল্যের পথ দেখাবে বলে আশা করেন তিনি।Executive Branch
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কী ধরনের ভঙ্গুর অর্থনীতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, তা এনবিআর কর্মকর্তারা অন্যদের তুলনায় বেশি অবগত। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের প্রভাব দেশের অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো এনবিআরকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এনবিআরের নীতি ও নিয়ম উপেক্ষা করে ব্যক্তি বা দলীয় স্বার্থে পৃষ্ঠপোষকতা, কারও প্রতি বিরূপ মনোভাব এবং রাজস্ব আহরণে স্বেচ্ছাচারিতার কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি। এতে এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয়।
‘ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখতে চায়। বিশেষ করে করদাতারা এনবিআরকে তাদের আস্থার জায়গা হিসেবে দেখতে চান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর অতিরিক্ত ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়ার নীতিতে বর্তমান সরকার বিশ্বাসী নয়। তাই অভ্যন্তরীণ রাজস্বের ক্ষেত্র ও উৎস বাড়াতে হবে।Executive Branch
এ জন্য সরকার গণমুখী উৎপাদন নীতি গ্রহণ করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, এতে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়ন বাড়বে, মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে এবং জনগণ আরও উন্নত সরকারি সেবা পাবে। এ ক্ষেত্রেও এনবিআরের দক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব অর্থনীতি ও প্রযুক্তি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ধরন ও ব্যবসার মডেলও বদলে যাচ্ছে। ফলে নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
আরও পড়ুন: সবাইকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই : প্রধানমন্ত্রী
ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, হস্তান্তর মূল্য নির্ধারণ, আন্তর্জাতিক করব্যবস্থা, বাণিজ্য অর্থায়ন, আর্থিক অপরাধ, অর্থপাচার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উপাত্ত বিশ্লেষণসহ আধুনিক বিষয়গুলোতে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
শুধু প্রচলিত কর আইন জানা আধুনিক রাজস্ব কর্মকর্তার জন্য যথেষ্ট নয় মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি, ব্যবসা, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান না থাকলে কর্মকর্তাদের কর্মক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভালো রাজস্ব ব্যবস্থায় মানুষ যেন স্বাচ্ছন্দ্যে কর দিতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। কর প্রদান পদ্ধতি সহজ করার পাশাপাশি দুর্নীতি ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
অনলাইনে কর পরিশোধের সুযোগ থাকলে করদাতাদের অপ্রয়োজনে অফিসে আসার প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কর প্রদান প্রক্রিয়া যত সহজ ও স্বচ্ছ হবে, করদাতাদের আস্থাও তত বাড়বে।
এনবিআর কর্মকর্তাদের আচরণ ও কার্যক্রমের মাধ্যমে করদাতাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা গেলে রাজস্ব আদায় আরও সহজ হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
দেশে কর-জিডিপি অনুপাত এখনও সক্ষমতার তুলনায় কম এবং করভিত্তিও তুলনামূলকভাবে সংকীর্ণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিতসংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা কমাতে হবে। অর্থনীতির অনানুষ্ঠানিক অংশকে যথাযথভাবে কর কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।Executive Branch
তিনি বলেন, আধুনিক কর প্রশাসনের লক্ষ্য শুধু বেশি কর আদায় নয়; বরং বেশি মানুষকে স্বেচ্ছায় কর প্রদানে উৎসাহিত করা। নিয়মিত করদাতাদের সম্মান দেওয়ার পাশাপাশি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর পরিহার করছেন, তাদেরও যথাযথভাবে কর প্রদানে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
একই করদাতার ওপর বারবার করের বোঝা বাড়িয়ে রাজস্ব বৃদ্ধির নীতি টেকসই নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কর প্রদানে সক্ষম ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তাদের যথাযথভাবে করের আওতায় আনতে হবে। এ জন্য ডিজিটাল, আধুনিক ও উপাত্তভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
ভ্যাটকে আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর সফলতা কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করে। ভ্যাট প্রশাসনের জটিলতার কারণে যাতে ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, তা এনবিআরকে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কাস্টমস, ভ্যাট কিংবা কর আদায় শুধু প্রয়োগের বিষয় নয়। রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ওপর করদাতাদের আস্থা ও বিশ্বাস তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ অনেক সহজ হয়ে যায়।
এনবিআরকে এমনভাবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ যেন এই প্রতিষ্ঠানকে ভয় না করে, বিশ্বাস করে।’ দেশের স্বার্থে এনবিআরকে জনগণের আরও বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রত্যাশা জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ দিকে সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্ব আহরণে ইতিবাচক ধারার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত রাজস্ব আহরণ ইতিবাচক ছিল। এটি প্রমাণ করে, ‘আপনারা পারেন, আপনারাই পারেন এবং আপনারা অবশ্যই পারবেন, ইনশাআল্লাহ।’
এ জন্য দেশপ্রেম ও আন্তরিকতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বার্থে আমরা সবাই মিলে একটি শক্তিশালী রাজস্ব ব্যবস্থা গড়ে তুলি।’
আরও সমৃদ্ধ, বিনিয়োগবান্ধব ও ব্যবসাবান্ধব রাজস্ব ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রত্যাশা জানিয়ে রাজস্ব সম্মেলনের সফলতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ