ঢাকা , সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬ , ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মহড়া কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের

আপলোড সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ১১:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ১৭-০৮-২০২৬ ১১:৩৭:১৯ পূর্বাহ্ন
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মহড়া কমানোর নির্দেশ ট্রাম্পের ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান যৌথ সামরিক মহড়া ‘আলচি ফ্রিডম শিল্ড’ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মহড়ার ব্যয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে দক্ষিণ কোরিয়ার অংশ না নেওয়াকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় রোববার (১৬ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, মহড়া পুরোপুরি বাতিল করার মতো সময় না থাকলেও তিনি এতে সন্তুষ্ট নন। তার মতে, এসব মহড়া ব্যয়বহুল এবং উত্তর কোরিয়ার প্রতি ‘অনুপযুক্ত ও শত্রুতামূলক’ বার্তা পাঠায়। খবর রয়টার্সের। 
বার্ষিক এই যৌথ সামরিক মহড়া ১৭ থেকে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা। এতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১৮ হাজার সেনা অংশ নিচ্ছেন। ড্রোন মোকাবিলা, জিপিএস সংকেত বিঘ্নিত হওয়া এবং সাইবার হামলার মতো পরিস্থিতি মোকাবিলার অনুশীলনও এতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা।
তবে দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানিয়েছে, ট্রাম্পের মন্তব্যের পরও মহড়া আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) নির্ধারিত সময়েই শুরু হয়েছে। মহড়া কমানোর বিষয়ে তারা বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি।
ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়াকে ব্যয়বহুল ও উসকানিমূলক বলে সমালোচনা করে আসছেন। তার প্রথম মেয়াদেও তিনি এসব মহড়া সীমিত বা বন্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন।
স্টিমসন সেন্টারের ৩৮ নর্থ কর্মসূচির প্রধান জেনি টাউন বলেন, এই সিদ্ধান্ত পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের সুযোগ তৈরির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হতে পারে। তবে সিদ্ধান্তটি যেভাবে নেওয়া হয়েছে, তাতে উত্তর কোরিয়ার ওপর খুব বেশি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।
ট্রাম্প ও কিমের সম্পর্ক গত কয়েক বছরে নাটকীয়ভাবে ওঠানামা করেছে। একসময় ট্রাম্প কিমকে ‘লিটল রকেট ম্যান’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন এবং উত্তর কোরিয়াকে কঠোর হুমকি দিয়েছিলেন। পরে দুজনের মধ্যে তিনটি শীর্ষ বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়।
তবে এসব বৈঠক সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি।
ট্রাম্প তার পোস্টে দক্ষিণ কোরিয়ার ইরান নীতির কথাও উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টকে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলে সিউল তাতে রাজি হয়নি।
ট্রাম্প লেখেন, দক্ষিণ কোরিয়া তাকে বলেছে—‘না ধন্যবাদ!’
এদিকে উত্তর কোরিয়া নিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ সামরিক মহড়াকে আক্রমণের প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যা দিয়ে থাকে। সম্প্রতি পিয়ংইয়ং জাপান সাগরের দিকে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রও ছুড়েছে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘আলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ায় সরাসরি গোলাবর্ষণের পরিবর্তে কম্পিউটারভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, সাইবার আক্রমণ ও অন্যান্য যুদ্ধ পরিস্থিতির সিমুলেশন বাড়ানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তাদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করা উত্তর কোরিয়ার সেনারা ড্রোন, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও সাইবার অভিযানের মতো আধুনিক যুদ্ধকৌশলে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নর্দার্ন কমান্ডের লেফটেন্যান্ট জেনারেল জোসেফ জারার্ড সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, উত্তর কোরিয়া এমন আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, যা উত্তর আমেরিকার যেকোনো স্থানে পারমাণবিক ওয়ারহেড পৌঁছে দেওয়ার সক্ষমতা রাখে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষা আরও জটিল হয়ে উঠছে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ