জেলা পর্যায়ে চালু হচ্ছে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’, পিছিয়ে পড়াদের অগ্রাধিকার: মাহদী আমিন
আপলোড সময় :
১২-০৮-২০২৬ ০৮:২০:৫৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১২-০৮-২০২৬ ০৮:২০:৫৮ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
আহমদ আনছারী, নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার, যেখানে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়েই আমরা ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করতে যাচ্ছি। এরই মধ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে এই এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ নিয়ে কয়েক দফা আলোচনা ও পরামর্শ হয়েছে। কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আজ বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারত্ব ও অগ্রাধিকার শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে মাহ্দী আমিন একথা বলেন। সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনের আলোচনার বিষয় ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১) এবং এসডিজি।
মাহ্দী আমিন বলেন, শুরুতে বিভাগীয় পর্যায়ে এ উদ্যোগ চালু হবে, পরে দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগকর্তাদের যুক্ত করা হবে। এ জন্য কারিগরি দক্ষতা, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দক্ষতা উন্নয়নে বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটিই সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় যুক্ত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও টেকসই নাগরিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র। তিনি বলেন, মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ায় প্রশাসনিক জবাবদিহি ও দায়বদ্ধতা আরও জোরালো হয়েছে। প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্র গঠনে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মাহদী আমিন বলেন, সাময়িক উন্নয়নের পরিবর্তে নাগরিকদের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধানের পাশাপাশি তাদের ভাগ্যোন্নয়নের জন্য প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। তৃণমূলের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও আটাসহ ৭টির বেশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে কর ও ভ্যাট কমানো হয়েছে। ফলে বাজারে কোনো অসাধু সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে পারেনি।
জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এ খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। দীর্ঘদিনের এই স্থবির সমস্যা মাত্র পাঁচ বা ছয় মাসে শতভাগ নিরসন করা সম্ভব নয়। সম্প্রতি একটি এফএসআরইউ (ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল) কারিগরিভাবে বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হলেও তা সমাধানে কাজ চলছে। মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বৈপ্লবিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি জানান, স্বাস্থ্য খাতে শিগগির এক লাখ নতুন পদ সৃষ্টি করে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, সরকারের প্রথম বাজেট ছিল অত্যন্ত ব্যাবসা ও বিনিয়োগবান্ধব। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতাই নয়, শিক্ষার্থীদের বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধ দিয়ে গড়ে তোলা হবে, যেন তারা সফল উদ্যোক্তা ও দক্ষ কর্মী হতে পারে। পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল ও অভিন্ন পোশাক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। শহরের মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সুবিধা গ্রামের শিক্ষার্থীদের কাছেও পৌঁছে দিতে শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল সাম্য আনার কাজ চলছে। একই সঙ্গে শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও তাদের সম্মান বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় খাল খননের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমানো হবে। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।
মাহদী আমিন জানান, নির্বাচনের পরপরই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পরিবারের নারীদের স্বনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করা হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরাসরি পাবেন। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া ঋণ ও সুদ মওকুফ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও শ্রমজীবী মানুষের বেতন-বোনাস নিশ্চিত করাকে সরকারের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও দেশে তেলের দাম বাড়তে দেওয়া হয়নি। ঈদকেন্দ্রিক শ্রমিক অসন্তোষের পরিবর্তে এবার শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সহযোগিতায় শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বিএনপির ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। দেশের সব শ্রেণি ও বৈচিত্র্যের মানুষের সমান অধিকার ও উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ দর্শনের মূল কথা।
মাহদী আমিন জানান, পাহাড়ি-সমতলের বাসিন্দা, ধর্ম-বর্ণ, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা শারীরিক সক্ষমতা-অক্ষমতা—সব পরিচয়ের ঊর্ধ্বে প্রতিটি মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক। ভিন্নমত ও বৈচিত্র্যকে সম্মান করেই দেশকে এগিয়ে যেতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকারের নীতিতে সব নাগরিকের সমান অধিকার, স্বাধীনতা ও উন্নয়নের সুযোগ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার।
মাহদী আমিন বলেন, গত ১৬ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় কাঠামো পুনর্গঠন ও সংস্কার সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শনকে ধারণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছেন।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও সংসদ সদস্য মাধবী মারমাসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স