কানাডার দাবানলের ধোঁয়ায় ক্ষুব্ধ ট্রাম্প, নতুন শুল্ক আরোপের হুমকি
আপলোড সময় :
১৮-০৭-২০২৬ ১২:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
১৮-০৭-২০২৬ ১২:৪৫:৩৯ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১৭ জুলাই ওয়াশিংটন ডিসির রোনাল্ড রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে কানাডা ও মিনেসোটার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়া আকাশকে ঢেকে ফেলে। ছবি: এএফপি
কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা দূষিত হয়ে পড়ায় কানাডার বিরুদ্ধে নতুন করে শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি অভিযোগ করেছেন, বন ব্যবস্থাপনায় কানাডার ‘ইচ্ছাকৃত অবহেলার’ কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলো দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাসে ঢেকে গেছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৭ জুলাই) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অপ্রয়োজনীয়ভাবে নোংরা, দূষিত ও অস্বাস্থ্যকর বাতাসের আগ্রাসনের শিকার হচ্ছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে তিনি ফোন করবেন এবং কানাডার অবহেলার জবাবে নতুন শুল্ক আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছেন। খবর বিবিসির।
কানাডিয়ান ওয়াইল্ডল্যান্ড ফায়ার ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত দেশটিতে ৮৮৮টি দাবানল সক্রিয় ছিল, যার বেশিরভাগই নিয়ন্ত্রণের বাইরে। শুধু অন্টারিও প্রদেশেই ১৯০টির বেশি আগুন জ্বলছে।
এর আগে অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনার জবাবে আগুন নেভাতে সহায়তা পাঠানোর আহ্বান জানান। অন্যদিকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের মতো সীমান্ত-অতিক্রমী সংকট মোকাবিলায় দুই দেশের যৌথভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর কানাডার জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী জানান, দাবানল মোকাবিলায় দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। ১৯৮২ সালের পারস্পরিক অগ্নিনির্বাপণ চুক্তি এবং ২০২৫ সালের জি-৭ সম্মেলনে হওয়া নতুন সমঝোতার আওতায় দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করছে।
কানাডার সংসদ সদস্য এলিনর ওলশেভস্কি বলেন, বন সংরক্ষণ ও দাবানল প্রতিরোধে কানাডা ইতোমধ্যে প্রায় ১২ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার বিনিয়োগ করেছে। তিনি বলেন, এটি এমন একটি সংকট, যা কোনো সীমান্ত মানে না। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কানাডা দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা, মিশিগান, ওহাইও, পেনসিলভানিয়া, নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বায়ুর মান মারাত্মকভাবে অবনতি হয়েছে। অনেক এলাকায় ‘বিপজ্জনক’ বায়ুমানের সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে বহু বহিরাঙ্গন আয়োজন।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ার জানিয়েছে, শুক্রবার বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরের তালিকায় ছিল ডেট্রয়েট। এছাড়া শিকাগো, ওয়াশিংটন ডিসি ও নিউইয়র্কও দূষিত শহরের শীর্ষ তালিকায় রয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকজন রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা কানাডার বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে বিজ্ঞানীরা বলছেন, দাবানলের ধোঁয়া বাতাসের গতিপ্রকৃতি অনুসারে সীমান্ত অতিক্রম করে ছড়িয়ে পড়ে এবং অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবানলের ধোঁয়াও কানাডায় একই ধরনের প্রভাব ফেলেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স