আজ কিংবদন্তি সংগীত শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন
আপলোড সময় :
০১-০৭-২০২৬ ০৯:২০:৪৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০১-০৭-২০২৬ ০৯:২০:৪৮ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, বিনোদন ডেস্ক: বাংলা সংগীতের প্রবাদপুরুষ ও জীবন্ত কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীর জন্মদিন আজ। ১৯৪০ সালের আজকের এই দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জন্মগ্রহণ করেছেন তিনি। আর ৮৬তম জন্মদিনে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও সতীর্থদের শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হচ্ছেন বর্ষীয়ান এই তারকা শিল্পী।
সৈয়দ আব্দুল হাদীর বাবা সৈয়দ আব্দুল হাই ছিলেন তৎকালীন একজন সরকারি কর্মকর্তা। তিনি গাইতে ও শুনতে ভীষণ পছন্দ করতেন। বাবার গ্রামোফোনে গান শুনে শুনে সংগীতের প্রতি কৌতূহল বাড়তে থাকে হাদীর। সেই আগ্রহ থেকে নিজেই গুনগুন করে গান গাইতেন। এভাবেই সংগীতচর্চা শুরু হয় তার।
১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন সৈয়দ আব্দুল হাদী। এখান থেকে বাংলা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রযোজক হিসেবেও কাজ করেছেন। সবশেষ লন্ডনে ওয়েলস ইউনিভার্সিটিতে প্রিন্সিপাল লাইব্রেরিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী।
তিনি প্লেব্যাক ও দেশাত্মবোধক গানের জন্য সর্বাধিক জনপ্রিয়। ১৯৬০ সালে ছাত্রজীবন থেকে চলচ্চিত্রে গান করা শুরু করেন। এর মাত্র চার বছর পর একক কণ্ঠে প্রথম বাংলা সিনেমায় কণ্ঠ দেন; নাম ‘ডাকবাবু’। মো. মনিরুজ্জামানের রচনায় সংগীত পরিচালক আলী হোসেনের সুরে একটি গানের মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় সৈয়দ আব্দুল হাদীর।
বেতারেও গেয়েছেন সৈয়দ আব্দুল হাদী। মাধ্যমটিতে তার গাওয়া প্রথম জনপ্রিয় গান ‘কিছু বলো, এই নির্জন প্রহরের কণাগুলো হৃদয়মাধুরী দিয়ে ভরে তোলো’। সালাউদ্দিন জাকি পরিচালিত ঘুড্ডি সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘সখি চলনা, সখি চলনা জলসা ঘরে এবার যাই’-ও গেয়েছেন তিনি।
এছাড়াও তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য― ‘আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার ব্যারিস্টার’, ‘সূর্যোদয়ে তুমি সূর্যাস্তেও তুমি’, ‘যে মাটির বুকে ঘুমিয়ে আছে’, ‘একবার যদি কেউ ভালোবাসতো’, ‘এই পৃথিবীর পান্থশালায়’, ‘চলে যায় যদি কেউ বাঁধন ছিঁড়ে’, ‘এমনও তো প্রেম হয়’, ‘কারও আপন হইতে পারলি না’, ‘কেউ কোন দিন আমারে তো’, ‘যেও না সাথী’, ‘শূন্য হাতে আজ এসেছি’, ‘দুঃখ চির সাথীরে’, ‘আমি তোমারই প্রেম ভিক্ষারী’, ‘চক্ষের নজর এমনি কইরা’, ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’, ‘কোন কিতাবে লেখা আছে’, ‘চোখ বুঝিলে দুনিয়া আন্ধার’, ‘তোমাদের সুখের এই নীড়ে’, ‘আউল বাউল লালনের দেশে’, ‘মনে প্রেমের বাত্তি জ্বলে’ ইত্যাদি।
সৈয়দ আব্দুল হাদী এ পর্যন্ত পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০০০ সালে সংগীতে অবদানের জন্য দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান একুশে পদক লাভ করেছেন তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স