ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬ , ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

আপলোড সময় : ৩০-০৬-২০২৬ ০৯:২০:০১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-০৬-২০২৬ ০৯:২০:০১ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আহমদ আনছারী, নিজস্ব প্রতিনিধি:   ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।
‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে  আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।  উল্লেখ্য, বুধবার (১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের। এ উপলক্ষ্যে আমি সম্মানিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান, ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।
অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। 
এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, প্রযুক্তিগত বিপ্লব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার সিকিউরিটি, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল এন্টারপ্রেনারশিপ, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করার বিকল্প নেই। শিক্ষাকে শুধু সার্টিফিকেটনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও প্রায়োগিক শিক্ষার ওপর জোর দিতে হবে, যা বাস্তব জীবনে যেকোনো দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা অর্জনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা করবে। এ কারণেই তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের দিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।
তারেক রহমান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অ্যালামনাই দেশে-বিদেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানে জ্ঞান, বিজ্ঞান, অর্থনীতি এবং বিভিন্ন পেশাগত ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। সেইসব প্রতিষ্ঠিত অ্যালামনাইকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা উন্নয়নে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে। ব্রিটেনসহ বিশ্বের অনেক দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে পৃষ্ঠপোষকতা করে থাকেন। গবেষণা ও উদ্ভাবনে আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাইদের আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল চর্চাকে শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি বহুমাত্রিক শিক্ষা কাঠামো গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে জায়গা করে নিতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজি ভাষার পাশাপাশি একটি তৃতীয় ভাষায়ও পারদর্শী হতে হবে। প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি তাদের নৈতিক শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে। 
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি ও পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কেও সচেতন হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকেই তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়। এক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করছি।




 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ