বাংলা রিলিজ, বিনোদন ডেস্ক: সন্তানের চেহারায় বাবা-মায়ের ছাপ খোঁজেন অনেকেই। কেউ বলেন, সন্তান দেখতে একেবারে মায়ের মতো, আবার কারও চোখে ফুটে ওঠে বাবার মুখের আদল। অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায়ের জীবনেও এমন অভিজ্ঞতা রয়েছে। তবে বাবা-মা দু’জনকেই হারানোর পর নিজের চেহারায় তাদের ছাপ খোঁজার বিষয়টি তার কাছে পেয়েছে অন্যরকম আবেগের অর্থ। এবার পূজার সকালে তোলা নিজের কয়েকটি ছবি দেখে মায়ের সঙ্গে মুখের মিল খুঁজে পেয়েছেন অভিনেত্রী। আর সেই উপলব্ধি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।স্বস্তিকার কথায়, ছোটবেলা থেকেই নিজের চেহারা নিয়ে নানা প্রশ্ন শুনতে হয়েছে তাকে। বিশেষ করে তার চোখ নিয়ে অনেকের কৌতূহল ছিল। বাবা-মায়ের চোখের সঙ্গে তার চোখের মিল নেই কেন, এমন প্রশ্নও শুনতে হয়েছে। অথচ একটি সন্তান দেখতে ঠিক কার মতো হবে, তা তো তার নিজের হাতে নেই।অভিনেত্রীর মতে, সন্তানকে বাবা কিংবা মায়ের মতো দেখতে কি না, তা নিয়ে সমাজের এই অতিরিক্ত কৌতূহল অনেক সময় অপ্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে। যেন চেহারার মিল দিয়েই বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্কের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে!ছোটবেলায় স্বস্তিকা জানতেন, তিনি দেখতে বাবার মতো। তার বাবা-মাও নাকি এমনটাই মনে করতেন। অন্যদিকে, তার বোনকে দেখতে একেবারে মায়ের মতো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোনের চেহারা, হাঁটাচলা ও শরীরী ভাষায় মায়ের ছাপ আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী।শুধু চেহারা নয়, রান্নার প্রতি আগ্রহ ও দক্ষতার ক্ষেত্রেও মায়ের সঙ্গে বোনের মিল খুঁজে পান স্বস্তিকা। এমনকি সন্তান জন্মের পর শরীরে যে পরিবর্তন এসেছে, সেই অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রেও দুই বোনের মধ্যে পার্থক্যের কথা তুলে ধরেছেন তিনি।বাবা-মা দু’জনকেই হারানোর পর নিজের মধ্যে তাদের ছাপ খুঁজতে শুরু করেন স্বস্তিকা। তার মনে হতো, চেহারায় যেন বাবা-মা দু’জনেরই প্রতিচ্ছবি রয়েছে। নিজের মুখে বাবার চেনা চোখের ছাপ খুঁজে পেলেও মায়ের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষা যেন থেকেই গিয়েছিল।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের সেই আবেগঘন উপলব্ধির কথা জানিয়ে স্বস্তিকা লিখেছেন, তার বোন প্রতি মাসেই যেন আরও একটু করে মায়ের মতো হয়ে উঠছে। বোনকে দেখলে মনে হয়, সে মায়েরই জুনিয়র সংস্করণ। অন্যদিকে নিজের মুখে মায়ের ছাপ খুঁজে পেতে অভিনেত্রীর লেগে গেল ৪৫টি পূজা।অবশেষে পূজার সকালে তোলা নিজের ছবিতে মায়ের সঙ্গে সেই মিল খুঁজে পেয়েছেন স্বস্তিকা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই উপলব্ধি তার কাছে হয়ে উঠেছে বিশেষ এক প্রাপ্তি। বাবা-মাকে হারানোর শূন্যতা পূরণ না হলেও নিজের চেহারায় মায়ের ছায়া খুঁজে পাওয়ার অনুভূতি যেন নতুন করে তাকে মায়ের কাছাকাছি নিয়ে গেল