গোলশূন্য ব্যবধানেই শেষ হলো বাংলাদেশ-মিয়ানমার ম্যাচ

আপলোড সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০৪:৩৯:০৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২১-০৯-২০২৬ ০৪:৩৯:০৩ অপরাহ্ন
বাংলা রিলিজ, স্পোর্টস ডেস্ক :  গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে দুই দলের লক্ষ্য ছিল একই— অন্তত একবার প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে নেওয়া। সেই লক্ষ্যে দুই দলই দেখালো আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ। কয়েকটি সুযোগও তৈরি হলো। তবে জাল খুঁজে পেলো না বাংলাদেশ-মিয়ানমার কোনো দলই। ফলে গোলশূন্য ব্যবধানেই শেষ হলো ম্যাচ। আজ সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) জাপানে এশিয়ান গেমসের ‘এফ’ গ্রুপের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করেছে বাংলাদেশ আর মিয়ানমার।
প্রথম দুই ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। ফলে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে মিয়ানমারের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশের। মিয়ানমারের অবস্থাও একই ছিল। তারাও আগের দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮-০ গোলে হেরেছিল।
প্রথমার্ধে আক্রমণের দিক থেকে কিছুটা এগিয়ে ছিল মিয়ানমার। ম্যাচের ২৭তম মিনিটে মিয়ানমারের একটি দুর্দান্ত শট গোলের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠলেও বাংলাদেশের গোলরক্ষক রুপনা চাকমা তা আটকে দেন। রুপনার পাশাপাশি শিউলি আজিম ও শামসুন্নাহার সিনিয়রদের রক্ষণও মিয়ানমারের আক্রমণ সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশের আক্রমণে ঋতুপর্ণা চাকমা, মনিকা চাকমা ও তহুরা খাতুনকে সামনে রেখে সুযোগ তৈরির চেষ্টা ছিল। অন্যদিকে মিয়ানমারের আক্রমণে উইন থেইঙ্গি তুনকে ঘিরে ছিল তাদের অন্যতম প্রধান হুমকি। মিয়ানমার দুই প্রান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশের রক্ষণে জায়গা তৈরির চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ সুযোগ পেলেই দ্রুত বল সামনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
বিরতির পরও ম্যাচের চিত্র খুব বেশি বদলায়নি। মিয়ানমার তুলনামূলক বেশি আক্রমণ তৈরি করতে থাকে। বাংলাদেশের রক্ষণকে বারবার পরীক্ষা দিতে হলেও রুপনা চাকমার দৃঢ়তায় গোলের দেখা পায়নি মিয়ানমার।
ম্যাচের ৬৮তম মিনিটে বাংলাদেশের মৌমিতা একটি ফাউলে জড়ান। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে বাংলাদেশের গোলমুখে আক্রমণ তৈরি করে মিয়ানমার। তাদের আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও বাংলাদেশের একজন ডিফেন্ডার সময়মতো সেটি রুখে দেন। ফলে মিয়ানমারের আরেকটি সম্ভাব্য গোলের সুযোগ নষ্ট হয়। ম্যাচের ৮৪তম মিনিটে বাংলাদেশও একটি কর্নার আদায় করে নেয়। বাংলাদেশের অধিনায়ক মারিয়া মান্দা সেই কর্নার থেকে কাঙ্ক্ষিত গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি বাংলাদেশ।
৮৬ মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ তৈরি করে মিয়ানমার। তবে আক্রমণটি কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয় তারা। পরের মিনিটেই অর্থাৎ ৮৭ মিনিটে বাংলাদেশ আবারও ফাউল করে। এতে মিয়ানমার একটি ফ্রি কিক পায়। ফ্রি কিক থেকে নেওয়া শটও জালে জড়াতে পারেনি মিয়ানমার।
ম্যাচের ৯১তম মিনিটে মিয়ানমারের স্ট্রাইকার দুর্দান্ত একটি আক্রমণ তৈরি করেন। গোলবারের খুব কাছ থেকে নেওয়া সেই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের জন্য বিপদ তৈরি করলেও আবারও সামনে দাঁড়িয়ে যান রুপনা চাকমা। তার দুর্দান্ত সেভে মিয়ানমারের গোলের সুযোগ নষ্ট হয় এবং বাংলাদেশ গোলশূন্য অবস্থান ধরে রাখে।
শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত ৫ মিনিটেও কোনো গোল হয়নি। মিয়ানমার পুরো ম্যাচে আক্রমণ ও শটের সংখ্যায় এগিয়ে থাকলেও বাংলাদেশের রক্ষণ এবং গোলরক্ষক রুপনা চাকমাকে পরাস্ত করতে পারেনি। বাংলাদেশও আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত ধার তৈরি করতে পারেনি। ফলে ৯০ মিনিট ও যোগ করা সময় মিলিয়ে গোলশূন্য ড্রতেই শেষ হয় বাংলাদেশ-মিয়ানমার ম্যাচ।
ম্যাচের পরিসংখ্যানে মিয়ানমারের আধিপত্যও স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে মিয়ানমার ৮টি শট নেয়, যার ৪টি ছিল লক্ষ্যে। বাংলাদেশের মোট শট ছিল ২টি এবং একটিও লক্ষ্যে ছিল না। কর্নারেও এগিয়ে ছিল মিয়ানমার, তারা পেয়েছে ৭টি, বাংলাদেশ পেয়েছে ২টি। ফ্রি কিকে বাংলাদেশ ১২টি এবং মিয়ানমার ১৩টি পেয়েছে।

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক ও প্রকাশক : 

নির্বাহী সম্পাদক : 

বার্তা সম্পাদক : 


অফিস :

অফিস : 

ইমেইল : 

মোবাইল :