হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশকারী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ পেতে পারে ইরান: রয়টার্স

আপলোড সময় : ০৬-০৮-২০২৬ ০৭:৪৫:৩২ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৮-২০২৬ ০৭:৪৫:৩২ অপরাহ্ন
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক :   ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনায় থাকা একটি প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে উপসাগরে প্রবেশকারী জাহাজের ওপর নিয়ন্ত্রণ তেহরানের হাতে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত এক জ্যেষ্ঠ ইরানি সূত্র এবং দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা এ তথ্য দিয়েছেন।
প্রস্তাবটি বাস্তবায়িত হলে এটি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন আনতে পারে। কারণ, যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো ধরনের ফি বা নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল করত। খবর রয়টার্সের। 
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয়ে একটি সমঝোতা খুবই কাছাকাছি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার বলেছেন, বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথের নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতে দেওয়ার বিষয়ে তারা কখনোই সম্মত হবেন না।
হরমুজ প্রণালির উত্তর অংশ ইরান এবং দক্ষিণ অংশ ওমানের নিয়ন্ত্রণে থাকায় দুই দেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছে। ইরান জানিয়েছে, আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং প্রস্তাব অনুযায়ী উপসাগরে প্রবেশ ও বের হওয়া—উভয় দিকের জাহাজই ইরানের জলসীমা ব্যবহার করবে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএকে বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে প্রবেশ ও প্রস্থানের সময় তারা ইরানের আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করে।
কাজেম গরিবাবাদি আরও জানান, ওমানের সঙ্গে আলোচনায় মৌলিক সমঝোতা হয়েছে এবং তা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এখনও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চূড়ান্ত হয়নি।
এর মধ্যে রয়েছে— ইরানের নিয়ন্ত্রণের পরিধি কতটা হবে, জাহাজ পরিদর্শনের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে এবং প্রণালি ব্যবহারের জন্য কোনো ফি আদায় করা হবে কি না।
ইরানি সূত্রের দাবি, তেহরান জাহাজের বহন করা পণ্যের মূল্যের ৫ থেকে ৭ শতাংশ পর্যন্ত ফি আদায় করতে চায়।
অন্যদিকে ওমান প্রায় ৩ শতাংশ ফি প্রস্তাব করেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ফি আরোপের বিরোধিতা করছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোকে সতর্ক করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় হামলা চালায়, তাহলে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে পাল্টা হামলা চালাবে।
এক উপসাগরীয় সূত্রের ভাষ্য, ইরানের বার্তা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট—যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবকাঠামোতে হামলা করলে তার মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনাও নিরাপদ থাকবে না।
লাস ভেগাসে এক সমাবেশে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, তিনি সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিতে চান।
ট্রাম্প বলেন, আমি একটি চুক্তি করতে চাই, কারণ আমি মানুষকে হত্যা করতে চাই না। তবে প্রয়োজন হলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অভিযানের পর থেকে ইরানে ৩ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, এ সংঘাতে তাদের ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘ কয়েক মাসের সামরিক অভিযানের পরও যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের প্রভাব কমাতে পারেনি। একই সঙ্গে মার্কিন সেনাবাহিনীর দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় ওয়াশিংটনের ওপর কূটনৈতিক সমাধানের চাপ বেড়েছে।

 

সম্পাদকীয় :

সম্পাদক ও প্রকাশক- মো: ওবায়েদ উল্যাহ ভূলন

নির্বাহী সম্পাদক - মো: তোফাজ্জল হোসেন কামাল

বার্তা সম্পাদক- আফসানা রহমান

অফিস :

অফিস ঠিকানা: ১২৫/এ শান্তিনগর প্লাজা (৩ য় তলা) ঢাকা-১০০০।

ইমেইল: banglarelease24@gmail.com

মোবাইল নাম্বার: 01711 932 986, 01916 547 72