রায় ঘোষণা করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা , দ্রুত কার্যকরের দাবি
আপলোড সময় :
০৭-০৬-২০২৬ ০১:১৯:২৭ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-০৬-২০২৬ ০১:১৯:২৭ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
মাহবুবুল আলম, কোর্ট প্রতিনিধি: রাজধানীর মিরপুরে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আদালত মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় ঘোষণা করায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন শিশুটির বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। রায় শোনার পরে আব্দুল হান্নান মোল্লা কান্নাজড়িত কণ্ঠে মোনাজাত করে তা দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন। অপরদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আজিজুর রহমান দুলুও আসামিদের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন।
বিচারক রায়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে আজ রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন এজলাসে আসেন। এরপর তিনি মামলার রায় পড়া শুরু করেন। বিচারক বেলা ১১টা ৩৮ মিনিটে এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে মাত্র ১৯ দিনে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় বিচারের নজির স্থাপিত হলো।
বিচারক দণ্ডের পাশাপাশি আসামি সোহেলকে ৫ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়ার আদেশ দেন। অপরদিকে আসামি স্বপ্নাকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। অর্থদণ্ড ভিকটিম রামিসার আইনগত উত্তরাধিকার পাবে।
এর আগে গত বৃহস্পতির (৫ জুন) যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে বিচারক আজ রায়ের দিন ঘোষণা করেন। ওই দিন রাষ্ট্রপক্ষ সোহেল রানা ও স্বপ্নার সর্বোচ্চ শাস্তি কামনা করে আদালতে যুক্তিতর্ক শুনানিতে বলেন। অপরদিকে সোহেল রানা ও স্বপ্নার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী সোহেল রানার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং স্ত্রীর দুই বছরের কারাদণ্ডের দাবি করেন।
আজ রায় উপলক্ষে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটের দিকে করাগার থেকে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে হাজতখানায় রাখা হয়। পরে সোহেল রানা ও স্বপ্নাকে বেলা ১০টা ৪৬ মিনিটের দিকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানা থেকে আদালতের এজলাসে তোলা হয়।
গত ২৪ মে মামলার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। এরপরে সিএমএম আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির আদেশ দেন।
পুলিশের দেওয়া অভিযোগপত্রে সোহেলের স্বীকারোক্তির বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আসামি সোহেলের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এবং তার স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে হত্যায় সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ১৭ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে একজন সাক্ষ্য দিতে আসেননি।
আসামি সোহেল রানা স্বীকারোক্তিতে বলেন, সাবলেটের অন্য সদস্যরা প্রতিদিন কাজে বেরিয়ে যাওয়ার পর তিনি নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। ঘটনার দিন ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার শিশু রামিসাকে দেখতে পেয়ে তিনি তাকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। পরে শিশুটিকে বাথরুমে নিয়ে যান। সেখানে রামিসা চিৎকার শুরু করলে তিনি তার মুখ চেপে ধরেন এবং মুখে কাপড় গুঁজে দেন। এরপর তাকে ধর্ষণ করেন। একপর্যায়ে শিশুটি জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তিনি তাকে মৃত মনে করেন। পরে অপরাধের আলামত নষ্ট করার উদ্দেশে একটি ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করেন।
জবানবন্দিতে সোহেল আরও বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এলাকার লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা রামিসাকে খুঁজতে শুরু করে। একপর্যায়ে শিশুটির মা তার কক্ষের সামনে রামিসার জুতো দেখতে পান এবং তাকে ডাকাডাকি শুরু করেন। কোনো সাড়া না পেয়ে আশপাশের লোকজন তার কক্ষের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে পালিয়ে যেতে বলেন। এরপর তিনি একটি রেঞ্চ ব্যবহার করে জানালার গ্রিল ভেঙে ফেলেন।
সোহেল জবানবন্দিতে আরও বলেন, বাইরে লোকজন যখন দরজায় ক্রমাগত ধাক্কা দিচ্ছিল, তখন তার স্ত্রী দরজা আটকে রেখে তাকে পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন। সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খুলে দেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স