অন্য দেশকে যুক্তরাষ্ট্রের হুকুম করার দিন শেষ : ইরান
আপলোড সময় :
২৮-০৪-২০২৬ ০৭:৫৮:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৮-০৪-২০২৬ ০৭:৫৮:১৫ অপরাহ্ন
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাইনিক
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও শান্তি আলোচনার টানাপোড়েনের মধ্যে ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাইনিক বলেছেন, অন্য দেশগুলো কী করবে বা না করবে, তা ‘ডিক্টেট’ করার বা হুকুম দেওয়ার ক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্র হারিয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেজা তালাইনিক এই মন্তব্য করেন।
রেজা তালাইনিক বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন আর এমন অবস্থানে নেই যে তারা স্বাধীন দেশের ওপর নিজেদের নীতি চাপিয়ে দেবে। বিশ্ব পরিস্থিতি এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ওয়াশিংটনকে বুঝতে হবে যে আগের মতো একক আধিপত্য বজায় রাখা এখন আর সম্ভব নয়।
ইরানি প্রতিরক্ষা মুখপাত্র দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই তাদের ‘অবৈধ এবং অযৌক্তিক’ দাবিগুলো ত্যাগ করতে হবে। তার মতে, ইরান কোনো চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তেহরান অটল থাকবে। তিনি ইঙ্গিত দেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি সত্যিই যুদ্ধের অবসান চায়, তবে তাদের উচিত ইরানের শর্তগুলোকে বাস্তবসম্মতভাবে বিবেচনা করা।
উল্লেখ্য, ইরান সম্প্রতি একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে যেখানে তারা যুদ্ধের অবসানকে পারমাণবিক আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে রেখেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই প্রস্তাবে অসন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও ইরান মনে করছে, ওয়াশিংটন শেষ পর্যন্ত তাদের প্রস্তাব মেনে নিতে বাধ্য হবে।
এদিকে আজ নিরাপত্তা পরিষদের এক বৈঠকে জাতিসংঘে নিযুক্ত রুশ স্থায়ী প্রতিনিধি ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নিজের নিরাপত্তা রক্ষায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সীমিত বা নিয়ন্ত্রণ করার পূর্ণ অধিকার ইরানের রয়েছে।
নেবেনজিয়া বলেন, পুরো পরিস্থিতির দায়ভার ইরানের ওপর চাপানোর একটি সুপরিকল্পিত চেষ্টা চলছে। যেন মনে হয় ইরানই তার প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় কোনো উপকূলীয় রাষ্ট্র যদি আক্রান্ত হয়, তবে নিজের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে তারা আঞ্চলিক জলসীমায় নৌ-চলাচল সীমিত করার অধিকার রাখে।
পশ্চিমা দেশগুলোর দ্বিমুখী আচরণের সমালোচনা করে রুশ রাষ্ট্রদূত তাদের ‘জলদস্যুদের’ সঙ্গে তুলনা করে বলেন, জলদস্যুরা অন্তত তাদের জাহাজে খুলি ও হাড় অঙ্কিত কালো পতাকা উড়িয়ে আক্রমণ করে, যা স্পষ্ট। কিন্তু পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদের বেআইনি কর্মকাণ্ড আড়াল করতে একতরফা নিষেধাজ্ঞার দোহাই দেয়। তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোর সমালোচনা করে বলেন, যারা কৃষ্ণসাগরে রাশিয়ার বাণিজ্যিক জাহাজে ইউক্রেনীয় হামলাকে সমর্থন দিচ্ছে, তারা এখন হরমুজ প্রণালিতে ‘নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা’ নিয়ে কথা বলছে—যা চরম ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছু নয়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স