বিকল্প ব্যবস্থায় সরকার জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখছে : প্রতিমন্ত্রী
আপলোড সময় :
২৩-০৪-২০২৬ ১২:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২৩-০৪-২০২৬ ১২:০৩:৫১ পূর্বাহ্ন
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
তোফােয়েল আহমেদ, নিজস্ব প্রতিনিধি: বৈশ্বিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে সরকার সতর্ক, দায়িত্বশীল ও দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সক্ষম হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা (বিধি-৬৮) এ অংশ নিয়ে এ কথা বলেন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার গঠনের সময় দেশে জ্বালানি তেলের মজুত ছিল মাত্র সাত দিনের। এ অবস্থায় ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরু হলে হরমুজ প্রলিলী ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান সংসদে বুধবার এ বিষয়ে নোটিশ উত্থাপন করেন।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম ৮৮ ডলার থেকে বেড়ে ১৬০ ডলারের বেশি হয়েছে। অকটেন ও জেট ফুয়েলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার দ্রুত সংগ্রহ, সরবরাহ পুনর্বিন্যাস এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের মাধ্যমে মজুত পরিস্থিতি শক্তিশালী করেছে।
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বর্তমানে সরকার মে মাস পর্যন্ত দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে এবং জুন-জুলাইয়ের জন্যও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি পেলেও বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে কম হারে মূল্য সমন্বয় করেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ২০২৬ সালে ২ ফেব্রুয়ারি ডিজেলের মূল্য ছিল ৮২ দশমিক শূন্য ৫ ডলার, যেটি ২৭ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে দাঁড়ায় ৮৮ দশমিক শূন্য ৪ ডলার। ১৭ এপ্রিল ২০২৬ এর সর্বশেষ প্রকাশনা অনুযায়ী এটির মূল্য দাঁড়ায় ১৬২ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার। আর ১ এপ্রিল থেকে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ এর এখানে যদি গড় মূল্য বিবেচনা করা হয়, তাহলে এটির মূল্য দাঁড়ায় ২০৮ দশমিক ৭৪ ডলার, যেটি মার্চে গড় মূল্য ছিল ১৮৬ দশমিক ৫৯ ডলার। অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর পর ডিজেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে ১৪২ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অকটেন সেখানে ৭২ দশমিক ২৩ শতাংশ, জেট ফুয়েল ১৪৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘পাকিস্তানে অকটেনের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৮ শতাংশ, যেখানে ডিজেলের মূল্য তারা বৃদ্ধি করেছে ৪০ শতাংশ। ভারতের মূল্য দেখলে মনে হবে যে তারা মূল্যবৃদ্ধি করেনি, কিন্তু তারা শুল্ক কাঠামোর পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে মূল্য স্বাভাবিক রাখবার চেষ্টা করে যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় অকটেনের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ৪৪ শতাংশ, ডিজেলের মূল্য ৩৫ শতাংশ। একইভাবে অবাক করা কথা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশাল তেলের মজুত রয়েছে, সেই যুক্তরাষ্ট্র আজকে তার অকটেনের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ শতাংশ এবং ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি পেয়েছে ৫০ শতাংশ। সেখানে আমাদের এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় রেখে মাত্র পেট্রোল, ডিজেল, অকটেনের মূল্য ১০ থেকে মাত্র ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি করেছি।
জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, যুদ্ধের প্রথম ৪৫ দিন কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় সরকার মূল্যবৃদ্ধি থেকে বিরত ছিল। পরে বাস্তবতার নিরিখে সীমিত পরিসরে মূল্য সমন্বয় করা হয়, যাতে ভর্তুকি, কৃষি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা যায়।
জ্বালানি সংকটের পেছনে কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুতকেও দায়ী করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধ মজুদ, কালোবাজারি এবং তেল পাচারের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে সরকার কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকায় ‘ফুয়েল পাস’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় অনেক এলাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে গণমাধ্যম প্রতিনিধি ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং ধারাবাহিকভাবে পরামর্শ নিচ্ছে। বিরোধী দলসহ সবার গঠনমূলক প্রস্তাব গ্রহণে সরকার প্রস্তুত রয়েছ
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ সংকট মোকাবিলা সম্ভব।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স