আ. লীগের ৭ নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল
আপলোড সময় :
০৫-১১-২০২৬ ০৫:০৭:৫৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৫-১১-২০২৬ ০৫:০৭:৫৫ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
মাহবুবুল আলম, কোর্ট প্রতিনিধি: চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার রক্তঝরা গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ডে উসকানি চালানোর অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট সাত নেতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া একজনের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন— বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার আসামিরা হলেন- কার্যক্রমে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম (পলাতক), সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, শেখ হাসিনার সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এদের মধ্যে মির্জা আজম ছাড়া বাকি ছয়জন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, মার্জিনা রায়হান ও সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্যান্য প্রসিকিউটররা।
শুনানিকালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জুলাই-আগস্টে রাষ্ট্রীয় মদদে চালানো নারকীয় তাণ্ডব ও আসামিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভূমিকার কথা বিস্তারিত তুলে ধরেন। তিনি প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণের (প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড) ভিত্তিতে আনীত অভিযোগ আমলে নেওয়ার জোর আর্জি জানান। একই সঙ্গে ইতোমধ্যেই কারাগারে থাকা ছয় আসামির বিরুদ্ধে ‘প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট’ এবং পলাতক একজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানান।
প্রসিকিউশনের জোরালো যুক্তি ও উপস্থাপিত তথ্য বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনাল সাত আসামির বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। এর ভিত্তিতে কারাগারে থাকা ছয়জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং পলাতক আসামির নামে জারি করা হয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম ও শুনানির জন্য আগামী ২২ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়েছে।
এর আগে গত ২ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ এই সাত হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ দাখিল করে।
অভিযোগে বলা হয়, জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচারবিরোধী গণআন্দোলন নির্মূল করতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এই সাতজনের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ও নিষ্ঠুর। তারা ১৪ দলীয় জোটের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নিয়ে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে স্তব্ধ করে দেওয়ার নীতিনির্ধারণী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন। দেশজুড়ে সান্ধ্য আইন (কারফিউ) জারি করে তার অন্তরালে নির্বিচারে গুলি ও হত্যাযজ্ঞ চালানোর পরিকল্পনার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এই সাত নেতার বিরুদ্ধে ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (উচ্চতর আদেশের দায়)-এর গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। অর্থাৎ, তাদের নির্দেশ ও পরিকল্পনাতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডাররা ছাত্র-জনতার ওপর এই ভয়াবহ গণহত্যা চালায়।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স