ঢাকা , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ , ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে নিহত বাকি ৫ জনের মরদেহ দেশে আসছে কাল

আপলোড সময় : ৩০-১০-২০২৬ ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ৩০-১০-২০২৬ ১২:২৪:৫৩ অপরাহ্ন
সৌদিতে নিহত  বাকি ৫ জনের মরদেহ দেশে আসছে কাল ফাইল ছবি
প্রবাস  ডেস্ক,  বাংলা রিলিজ:   সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নওগাঁর ১২ জনের মধ্যে সাতজনের মরদেহ দেশে ফিরেছে। বাকি পাঁচ প্রবাসীর মরদেহ আসছে আগামীকাল শনিবার (৩১ অক্টোবর)।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাংলাদেশ দূতাবাস রিয়াদ, সৌদি আরবের কাউন্সিলর মুহাম্মদ রেজায়ে রাব্বি সাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
অপরদিকে প্রিয়জনের নিথর দেহের অপেক্ষায় দিন গুনছেন এই পাঁচজনের স্বজনরা। কেউ সন্তান হারিয়ে বুকভরা শোক নিয়ে ছুটছেন প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে, কেউ আবার মুঠোফোনে সন্তানের ছবি দেখে অশ্রু ঝরাচ্ছেন। স্বজন হারানোর শোকের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদেশে যেতে নেওয়া ঋণের বোঝা। সব মিলিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পরিবারগুলোর। তার ওপর হরিণের চাপে দিশাহারা হয়ে পড়েছে পরিবারগুলো।
নিহত ছেলের মরদেহের অপেক্ষায় আছেন আত্রাই উপজেলার ৭০ বয়সী মজনু সরদার ও তার স্ত্রী ছাইদা বেগম দম্পতি। প্রিয় সন্তানের মুখ শেষবারের মতো দেখার আশায় মরদেহ ফেরার খোঁজ নিতে সপ্তাহে দুই দিন ছুটে আসেন আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে। তাদের একটাই প্রশ্ন, কবে দেশে ফিরবে ছেলে মজিদুল সরদারের মরদেহ।
একই অপেক্ষায় আত্রাই উপজেলার মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের পারুল আক্তারের। সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ছেলে মিনহাজের ছবি মুঠোফোনে দেখলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। বুকের ধনকে হারানোর শোক কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না এই মা। কবে ছেলের মরদেহ ফিরবে, সেই চিন্তায় রাতের ঘুমও হারাম হয়েছে তাঁর।
শুধু এই দুই পরিবার নয়, একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বাকি নিহতদের স্বজনরাও। একদিকে প্রিয়জনকে হারানোর অসহনীয় শোক, অন্যদিকে মরদেহ দেশে ফেরার অনিশ্চয়তা। এর সঙ্গে রয়েছে বিদেশযাত্রায় নেওয়া ঋণের চাপ। সব মিলিয়ে দিশেহারা পরিবারগুলো। স্বজনদের দাবি, দ্রুত মৃতদেহগুলো ফেরানোর পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহযোগিতা করবে সরকার।
আত্রাই উপজেলার সাধনগর গ্রামের নিহত সাগর আলীর স্ত্রী পারভীন খাতুন জানান, ছয় মাস আগে সাড়ে ৬ লাখ টাকা ঋণ করে সৌদি আরবে গিয়েছে তার স্বামী। এখন পযন্ত ঋণের এক লাখ টাকাও পরিশোধ করতে পারেননি তিনি। সেই সাথে বন্ধক রেখেছেন মাথা গোজার একমাত্র ঠাঁই বসতবাড়ি। এখন স্বামীকে হারিয়ে দিশেহারা এই গৃহবধূ। তাদের ঘরে দুটি ছোট্ট ছেলে সন্তান রয়েছে। এখন তার স্বামীর মৃত্যুতে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে তাদের ভবিষ্যৎ। সামনের দিনে কিভাবে চলবে সংসার, কীভাবেই বা মিটাবেন ঋণ; সেই চিন্তায় পাগলপ্রায় গৃহবধূ পারভীন খাতুন। তবে তার দাবি একটাই, যে কোন মূল্যে নিহত স্বামীর মরদেহ ফেরতা চান তিনি।
আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তে ডিএনএ পরীক্ষার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশের ফ্লাইট সমস্যার কারণে মরদেহ গুলো আসতে সময় লাগছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে প্রশাসন।
এর আগে গেলো ২৮ আগস্ট ১২ জনের মধ্যে ৭ জনের মরদেহ দেশে ফিরে। তবে এখনো বাকী ৫ জনের মরদেহ। পাঁচজনের মধ্যে চারজনের বাড়ি আত্রাই উপজেলায় এবং একজনের বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলায়।
প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট সৌদি রোববার আরবের সময় দুপুর ২টার দিকে সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানা এলাকার একটি সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে ১২ নিহত নওগার বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। এর মধ্যে আত্রাই উপজেলার ১১ জন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজন শ্রমিক নিহত হন। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর আত্রাই উপজেলার ১১ জনের মধ্যে সাতজনের মন দেহ গত ২৮ আগস্ট দেশে আসে। আত্রাই উপজেলার আরো চারজন এবং নওগাঁ সদর উপজেলার একজনের মরদেহ এখনো সৌদি আরবের রয়েছে।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ