বিলাসী জীবন থেকে কারাগারে বন্দি মডেল শ্রদ্ধা দুবে
আপলোড সময় :
২৫-১০-২০২৬ ০৭:৪০:৩৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-১০-২০২৬ ০৭:৪০:৩৬ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, বিনোদন ডেস্ক: ভারতের লক্ষ্ণৌয়ের মডেল শ্রদ্ধা দুবে বিলাসবহুল জীবন থেকে এখন কারাগারের চার দেয়ালে বন্দি। ক্যাফে মালিক শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় গ্রেফতারের পর তাকে রাখা হয়েছে লক্ষ্ণৌয়ের গোসাইগঞ্জ জেলা কারাগারে। সেখানেই ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে একই কুঠুরিতে দিন কাটছে তার। কারাগারে যাওয়ার পর থেকেই ঠিকমতো খাচ্ছেন না তিনি। সেই সঙ্গে অন্য বন্দিদের সঙ্গেও কম কথা বলছেন শ্রদ্ধা।
এর আগে গত ৯ অক্টোবর লক্ষ্ণৌয়ের একটি আবাসনের চারতলা ভবন থেকে পড়ে মারা যান ক্যাফে মালিক শিবা শর্মা। ওই আবাসনেই তার সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন শ্রদ্ধা দুবে। শিবার মৃত্যুর ঘটনায় তার বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে সেই অভিযোগ অস্বীকার করে শ্রদ্ধা দুবের দাবি— শিবা আত্মহত্যা করেছেন। এরপর ২০ অক্টোবর মহারাষ্ট্রের পুলিশ নাগপুর থেকে শ্রদ্ধা, তার বোন রশ্মি এবং তাদের গাড়িচালক আদিলকে গ্রেফতার করে।
এদিকে পুলিশ শিবা শর্মার মৃত্যুর পর শ্রদ্ধাদের পালাতে সহায়তাকারীদের খুঁজছে। এ ঘটনায় শ্রদ্ধার প্রেমিক আমির শেখের নাম সামনে এসেছে। আমির ও তার সহযোগীরা শ্রদ্ধা, রশ্মি ও আদিলকে কানপুর, নাগপুর— এমনকি নেপালেও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করে দেন। আমির শেখকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অন্য সহযোগীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
তার আগে নেপালে অবস্থানকালে পুলিশের নজরে আসার পর গ্রেফতার এড়াতে শ্রদ্ধারা আবার ভারতে ফিরে আসেন। পরে নাগপুরে আশ্রয় নেন। সেখান থেকেই তাদের গ্রেফতার করা হয়।
ক্যাফে ব্যবসায়ী শিবা শর্মার মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) আদালতে তোলেন। আদালতের বিচারক এ তিনজনকে ১০ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, কারাগারে নেওয়ার পর প্রথমে তিনজনকে নিভৃতবাসে রাখা হয়। পরে তাদের অন্য কক্ষে স্থানান্তর করা হয়। শ্রদ্ধা ও তার বোন রশ্মিকে রাখা হয়েছে ৪৫ নারী বন্দির সঙ্গে।
গ্রেফতারের পর থেকে শ্রদ্ধা ও রশ্মির সঙ্গে দেখা করতে পরিবারের কেউ কারাগারে আসেননি বলে জানিয়েছে কারা সূত্র। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কারাগারের জেলার ঋত্বিক প্রিয়দর্শী। তবে দুই বোনের আচরণে উদ্বেগের ছাপ রয়েছে।
তারা বেশিরভাগ সময় কারাগারে চুপচাপ বসে থাকছেন। মাঝেমধ্যে নিজেদের মধ্যে কথা বললেও অন্যদের সঙ্গে তেমন কোনো কথা বলছেন না। প্রথম রাতেও স্বাভাবিক ছিলেন না শ্রদ্ধা। রাতে তাকে রুটি, ডাল, আলু-সয়াবিন ও মেথি শাকের তরকারি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি খাবার খেতে চাননি। অনেক রাত পর্যন্ত জেগে ছিলেন, ঘুমও হয়নি ঠিকমতো। ভোর ৬টার দিকে অন্য বন্দিদের মতো তাকেও ঘুম থেকে উঠতে হয়। এভাবেই দিন কাটছে শ্রদ্ধা দুবের।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স