রাতে জাপান সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
আপলোড সময় :
২৫-১০-২০২৬ ১২:১০:৩১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৫-১০-২০২৬ ১২:১০:৩১ অপরাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
আহমদ আনছারী, নিজস্ব প্রতিনিধি : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাপানে এটা তাঁর প্রথম সফর। এর আগে তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া দুবার করে জাপান সফর করেছিলেন।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে টোকিওর উদ্দেশে ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সফরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন তারেক রহমান। এ ছাড়া জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি।
সফরকালে জাইকা, জেট্রো, জেবিআইসি ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর সদর দপ্তর ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের সম্ভাব্য কর্মসূচি রয়েছে।
সফরে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। গুরুত্ব পাবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সই হওয়া বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারি চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের বিষয়টিও।
পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, কৃষি, মৎস্য, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নে সমঝোতা স্মারক সই বা সহযোগিতার ঘোষণা আসতে পারে।
এ ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক শান্তি-স্থিতিশীলতা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি, যখন জাপান স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে একেবারে প্রথমদিকে স্বীকৃতি দেয়। কিন্তু এর চেয়েও বড় সত্য হলো, এই মৈত্রীর বীজ বপন করা হয়েছিল যুদ্ধের ঠিক পরপরই দুর্দিনের অবিনাশী বন্ধনে। যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ যখন ধুঁকছিল, তখন সুদূর টোকিও এবং ওসাকার স্কুলের ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা তাদের টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে এবং সাধারণ জাপানি নাগরিকরা তাদের সঞ্চয় থেকে তহবিল সংগ্রহ করে সাহায্য পাঠিয়েছিল বাংলাদেশের যুদ্ধপীড়িত মানুষের জন্য।
বিশ্বের অনেক বড় দেশই ঋণ বা সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক কিংবা ভূরাজনৈতিক শর্ত জুড়ে দেয়। কিন্তু জাপানি সহযোগিতার ধরন সম্পূর্ণ রাজনৈতিক শর্তহীন। তারা অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে এ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে মনোনিবেশ করে।
বিগত পাঁচ দশক ধরে জাপান বাংলাদেশের উন্নয়ন ও প্রগতির সারথি হিসেবে কাজ করে আসছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত জাপান বাংলাদেশকে প্রায় ৩১.৮৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করেছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স