ঢাকা , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল

আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৬ ১১:৪৪:১৯ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৬ ১১:৪৪:১৯ পূর্বাহ্ন
অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট দাখিল ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাংলা রিলিজ:   কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশিয়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যা হত্যাকাণ্ডে আদালতে মামলায় চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় দুই কিশোরসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। গেলো ২০ অক্টোবর আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়। 
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) অক্টোবর রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) লুৎফর রহমান।
চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ, কামরুল হাসান ও সিয়ামকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। চারজন পরিকল্পনা করে। তাদের মধ্যে সিয়াম ছাড়া বাকি তিনজন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশগ্রহণ করে।
পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছিল। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের কথা তদন্তের বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক।
মামলার বাদী অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কল করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সেই আশা করছি। বয়সের ফাঁরাকে যেন আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে।

 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ