ট্রাম্পের দূতের সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন গোয়েন্দা সহায়তা ফিরল ইউক্রেনে
আপলোড সময় :
২১-১০-২০২৬ ১১:২২:১৫ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২১-১০-২০২৬ ১১:২২:১৫ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে বৈঠকের পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়ার প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য এখন যথাসময়ে পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ অক্টােবর) নরওয়ের রাজধানী অসলোতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউক্রেনের যুদ্ধ বন্ধের প্রস্তাব, নিরাপত্তা নিশ্চয়তা এবং জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব ও নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্টোরে অংশ নেন। ট্রাম্পের জামাতা ও বিশেষ দূত জ্যারেড কুশনার ভিডিও লিংকের মাধ্যমে আলোচনায় যুক্ত ছিলেন। খবর বিবিসির।
এর আগে কিয়েভ অভিযোগ করেছিল, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করছে না। তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এ অভিযোগকে ‘কলঙ্কজনক’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
অসলোতে বৈঠকের পর জেলেনস্কি বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কবার্তা ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে শিশু ও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য এখন কাজ করছে, এ জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ।
ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট স্টাব আলোচনায় শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব নিয়ে ‘প্রকৃত অগ্রগতি’ হয়েছে বলে জানান। তবে তিনি বিস্তারিত প্রকাশ করেননি এবং সতর্ক করে বলেন, এ প্রক্রিয়ায় ধৈর্য ধরতে হবে।
ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্ররা এখন রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। আজ বুধবার (২১ অক্টােবর) রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে উইটকফের। আলোচনায় কুশনারও ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে মার্কিন এক কর্মকর্তা। তার ভাষায়, অসলোতে আলোচনা ছিল ‘অত্যন্ত ফলপ্রসূ ও গঠনমূলক’।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, উইটকফ কী প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তা মস্কো শুনবে। তবে তিনি ‘কোনো রাজনৈতিক ছাড়’ দেওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করেছেন।
এদিকে, রাশিয়ার ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের দাবি, মঙ্গলবার এসব হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায়, চারজন পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে এবং দুজন মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রো শহরে নিহত হন।
জেলেনস্কি জানান, বৈঠকে ইউক্রেনের জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতি এবং মার্কিন স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগব্যবস্থা স্টারলিংকের পরিষেবা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী স্টারলিংক নেটওয়ার্কে গতি সীমিত করার অভিযোগ করেছে। ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে এই যোগাযোগব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জেলেনস্কি পুনর্ব্যক্ত করেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইউক্রেন আলোচনায় প্রস্তুত। তবে তিনি বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধে হারছি না, কিন্তু রাশিয়ার হামলায় মানুষ হারাচ্ছি।’
ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হয় ২০২২ সালে। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এদিকে, ইউক্রেনকে আরও মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধক সরবরাহের অনুমোদন এখনও মেলেনি বলে মঙ্গলবার কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। ভারতে সফররত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধকগুলো এখনও ইউক্রেনে না পৌঁছানোর তথ্য সত্য হতে পারে। তবে কিয়েভকে ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা হয়নি বলে তিনি জোর দেন।
ইউরোপীয় নেতারা যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্যেও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেছেন, যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানে পরস্পরবিরোধী বার্তা রয়েছে। তার মতে, সংকট সমাধানে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
অন্যদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের অংশীদার হলেও দুই দেশের স্বার্থ সব সময় এক নয়। রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনের হামলা বন্ধ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স