ফ্রান্সজুড়ে দাঙ্গার পর প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি
আপলোড সময় :
২০-১০-২০২৬ ১১:১৪:৫০ পূর্বাহ্ন
আপডেট সময় :
২০-১০-২০২৬ ১১:১৪:৫০ পূর্বাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ১৯ অক্টোবর প্যারিসের কেন্দ্রস্থলে রু ইভ তুদিক এলাকায়, ‘জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়’-এর বিরুদ্ধে সপ্তাহান্তজুড়ে চলা বিক্ষোভের পর ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি পুড়ে যাওয়া ভ্যানের ভেতর তাকিয়ে আছেন স্থানীয় এক বাসিন্দা। ছবি: এএফপি
ফ্রান্সজুড়ে দাঙ্গা ও লুটপাটের পর রাজধানী প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং অন্যান্য শহরে রাতের কারফিউ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় মেয়রদের প্রয়োজন অনুযায়ী কারফিউ জারির ক্ষমতাও দিয়েছে সরকার। খবর বিবিসির।
প্যারিস পুলিশ জানিয়েছে, প্লাস দে লা রিপাবলিক ও লে আল শপিং এলাকায় স্থানীয় সময় রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে। শহরের কেন্দ্রীয় কয়েকটি এলাকায় অনুমতি ছাড়া জমায়েতও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মার্সেই, বোর্দো, নিস, লিওঁ ও লিলসহ বিভিন্ন শহরে তরুণদের চলাচল ও জনসমাবেশের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টােবর) জরুরি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু জানান, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর পুনরুদ্ধারে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে ক্ষয়ক্ষতির জন্য দায়ীদের কাছ থেকে সেই অর্থ আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। দাঙ্গার কারণে যারা কাজ করতে পারছেন না, তাদের জন্য আংশিক বেকারত্ব সহায়তারও ঘোষণা দেন তিনি। প্রয়োজনে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারির বিষয়টিও উড়িয়ে দেননি প্রধানমন্ত্রী।
ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ স্বীকার করেছেন, কয়েকটি শহরে পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল পুলিশ। সহিংসতা মোকাবিলায় প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে সমালোচনার মুখে তিনি পদত্যাগের চেষ্টা করলেও প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তা প্রত্যাখ্যান করেন। এদিকে দাঙ্গায় জড়িত সম্ভাব্য মূল হোতাদের শনাক্ত করতে ২০০ তদন্তকারী সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছেন।
কর্তৃপক্ষের হিসাবে, সহিংসতায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া পুলিশের ভিড় নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত গ্রেনেডের বিস্ফোরণে এক বিক্ষোভকারীর হাত উড়ে গেছে বলে জানিয়েছে এএফপি।
ফ্রান্সের চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রধান আলাঁ দি ক্রেসেনজোর তথ্য অনুযায়ী, দুই হাজারের বেশি দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতির পরিমাণ কয়েকশ কোটি ইউরো নয়, বরং কয়েকশ মিলিয়ন ইউরো বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। মার্সেইয়ের ব্যবসায়ীরা নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতারা।
দাঙ্গার সময় লুট হওয়া পণ্য বিভিন্ন অনলাইন বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে তালিকাভুক্ত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ভিন্টেড জানিয়েছে, চুরি করা পণ্য বিক্রি বা বিক্রির প্রস্তাব তাদের নীতিমালায় কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং সন্দেহজনক বিজ্ঞাপন সরাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
গত সপ্তাহান্তে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি সেবার অবনতির প্রতিবাদে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে প্যারিস, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে গাড়ি ও ভবনে আগুন দেওয়া এবং দোকানপাটে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক টাউন হলও আগুনে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরিস্থিতির কারণে ফ্রান্সে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও জার্মানি। বড় জমায়েতের কাছাকাছি গেলে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে দেশগুলো।
এদিকে সহিংসতায় বামপন্থী দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু অভিযোগ করেছেন, কিছু গোষ্ঠী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যন্ত দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়। দলটির নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ অভিযোগের প্রমাণ দিতে অথবা ক্ষমা চাইতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স