ঢাকা , রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬ , ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে ৩২ রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিতে চলবে বাস

আপলোড সময় : ১১-১০-২০২৬ ১২:১২:০১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১১-১০-২০২৬ ১২:১২:০১ অপরাহ্ন
রাজধানীতে ৩২ রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিতে চলবে বাস ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাংলা রিলিজ: রাজধানী ঢাকার গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে ৩২টি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে দুটি রুটে এ ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর দুই মাসের মধ্যে ৩২টি রুটের ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারণ এবং ছয় মাসের মধ্যে পুরো কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় বাস রুট পুনর্বিন্যাস, কোম্পানিভিত্তিক পরিবহণ পরিচালনা, নির্দিষ্ট বাস স্টপেজ নির্মাণ, ই-টিকিটিং চালু এবং পুরোনো বাসের মান উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল রয়েছে। এসব রুটে বিভিন্ন কোম্পানির পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন বাসও চলাচল করে। ছোট ছোট রুট এবং একাধিক রুটের মধ্যে পুনরাবৃত্তির কারণে যাত্রী ওঠানো নিয়ে বাসগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। এতে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।
এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান রুটগুলো সমন্বয় করে ৩২টি রুটে রূপান্তরের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত রুটের প্রায় ৭০ শতাংশ বর্তমান রুটের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি রুটে নির্দিষ্ট একটি কোম্পানির বাস চলবে। বাসের ফিটনেস, চালকদের আচরণ, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং পরিবহণ আইন মেনে চলার দায়িত্ব থাকবে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ওপর। এর মাধ্যমে বাস পরিচালনায় জবাবদিহি বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যত্রতত্র বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে নির্দিষ্ট স্টপেজ নির্মাণ ও সংস্কারের সিদ্ধান্তও হয়েছে। আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় উন্নয়নকাজের বিবরণসহ স্টপেজের তালিকা ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে পাঠানো হবে।
তিন মাসের মধ্যে এসব স্টপেজের নির্মাণ ও সংস্কারকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার্থে সেখানে ছাউনি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা রাখা হবে।
এ ছাড়া বাসে কাউন্টারভিত্তিক টিকিটের পাশাপাশি ই-টিকিটিং ব্যবস্থা চালু এবং প্রতিটি বাসে জিপিএস ট্র্যাকার স্থাপন বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে বাসের চলাচল পর্যবেক্ষণ ও যাত্রীসেবার মান উন্নয়নের আশা করা হচ্ছে।
সভায় রাজধানীর ফিটনেসবিহীন, মেয়াদোত্তীর্ণ ও জরাজীর্ণ বাসের বিষয়েও আলোচনা হয়। এসব বাসের যান্ত্রিক মেরামত ও ডেন্টিং-পেইন্টিংয়ের জন্য মালিকদের দুই মাস সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মেরামত না করলে সংশ্লিষ্ট বাস চলাচল করতে পারবে না এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, বিভিন্ন মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জব্দ করা প্রায় ৩৬ হাজার যানবাহন ডাম্পিং স্টেশনে পড়ে রয়েছে। এসব যানবাহন দ্রুত নিলাম বা অন্য আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন রুটে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ করপোরেশনের (বিআরটিসি) বৈদ্যুতিক বাস চালুর বিষয়টিও সভায় গুরুত্ব পেয়েছে। প্রাথমিকভাবে রাজধানীর আটটি রুটে এসব বাস চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঢাকা পরিবহণ সমন্বয় কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ), বিআরটিসি ও বাস মালিক সমিতির সঙ্গে আলোচনা করে রুট চূড়ান্ত করা হবে।
সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ছয় মাসের সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগে জমা দিতে বলা হয়েছে। ২০২৭ সালের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।


 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ