আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী আজ, ৭ বছরেও বিচার শেষ না হওয়ায় পরিবারে হতাশা
আপলোড সময় :
০৭-১০-২০২৬ ১২:১৬:০২ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০৭-১০-২০২৬ ১২:২০:২৯ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিনিধি, বাংলা রিলিজ: ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের নির্মম নির্যাতনে নিহত কুষ্টিয়ার বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ৭ম মৃত্যুবার্ষিক আজ বুধবার (৭ অক্টোবর)। আবরারের ছবি, সোকেচে সাজানো ব্যবহৃত জিনিসপত্র আর হাজারো স্মৃতি আঁকড়ে ধরে কোনরকম বেঁচে আছেন মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ। মৃত্যুর ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হত্যায় জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
এদিকে নাতি হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করার প্রতিক্ষায় প্রহর গুণছেন ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুর। বেঁচে থাকতে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের রায় কার্যকর দেখে যেতে চান তিনি। আর আবরার ফাহাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনসহ পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে অতিদ্রুত রায় কার্যকরের দাবি কুষ্টিয়াবাসীর।
কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই সড়কের পাশে আবরারের বাড়িতে এখনো সোকেচে সাজানো মোবাইলফোন, ল্যাপটপসহ ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র। আগের মতই ঘরে রয়েছে বিছানা ও পড়ার টেবিল। শুধু নেই আবরার ফাহাদ। এর মধ্যে কেটে গেল ৭টি বছর। ছেলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র আর হাজারো স্মৃতি আঁকড়ে ধরে কোন রকম বেঁচে আছেন মা রোকেয়া খাতুন ও বাবা বরকত উল্লাহ। সন্তানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের কথা মনে হলে শিউরে ওঠেন প্রতি মূহূর্ত।
২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর নিজ হাতে খাইয়ে কুষ্টিয়া থেকে বাসে তুলে দিয়েছিলেন বুয়েটের উদ্দেশে। ঐ দিনটায় ছিল আবরারের সাথে মায়ের শেষ দেখা। সেই বিদায় যে সন্তানের শেষ বিদায় হবে, আর বুকে ফিরবে না নারীছেঁড়া ধন, তা তখনও অজানা ছিল মা রোকেয়া খাতুনের।
সেইদিন রাতেই ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের শেরেবাংলা হলে অমানবিক নির্যাতন করে হত্যা করে আবরার ফাহাদকে। মৃত্যুর ৭ বছর পেরিয়ে গেলেও ছেলে হত্যার বিচারের রায় কার্যকর না হওয়ায় চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাবা মো. বরকত উল্লাহ। তিনি বলেন, নির্মমভাবে আবরারকে যারা হত্যা করলো তারা কয়েকজন পালিয়েছে। তাদের এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের জন্য আবরার ফাহাদ শহীদ হয়েছে, তার সেই স্বপ্নের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনসহ দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাই।
এদিকে নাতি হত্যার বিচারের রায় কার্যকর করার প্রতীক্ষায় প্রহর গুণছেন ১০৫ বছর বয়সী দাদা আব্দুল গফুর। বেঁচে থাকতে আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের রায় কার্যকর দেখে যেতে চান তিনি। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারসহ অতিদ্রুত রায় কার্যকরার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান আব্দুল গফুর।
মা রোকেয়া খাতুন বর্তমানে আবরারের একমাত্র ছোট ভাই বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাইয়াজের সাথে ঢাকায় বসবাস করেন। তিনি শারীরিকভাবেও অসুস্থ।
এদিকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড এখনো তাড়িয়ে বেড়ায় কুষ্টিয়াবাসীকে।
শহীদ আবরার ফাহাদ স্মৃতি গ্রন্থাগারের উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ৭ বছর পেরিয়ে গেছে। কিন্তু এখনো রায় কার্যকর হয়নি। আবরার ফাহাদের মতো আর কোনো সন্তান যেন এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার না হয়; সেজন্য তার পরিবার ও কুষ্টিয়াবাসীসহ সারাদেশের মানুষ আবরার ফাহাদ হত্যার রায় কার্যকর দেখতে চায়। তাই হত্যার সাথে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত রায় কার্যকর ও আবরারের স্বপ্নের বৈষম্যহীন রাষ্ট্র ঘটনের দাবি জানাচ্ছি।
কোন পর্যায়ে বিচার
আবরার ফাহাদ হত্যা মামলার বিচার শুরু হয় ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও জেল আপিল করেন।
দীর্ঘ শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রাখেন অর্থাৎ ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল থাকে।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামিরা আপিল ও লিভ টু আপিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষ অবশ্য নতুন করে আপিল করেনি। কারণ হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের রায় বহাল রেখেছেন।
হাইকোর্টের রায়ের পর মামলাটি এখন আপিল বিভাগে বিচারাধীন। কিন্তু সেখানে এখনও মূল আপিলের শুনানি শুরু হয়নি। আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মামলার প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার পেপারবুক প্রস্তুত হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় ওঠেনি। দণ্ডিত আসামিদের মধ্যে ২২ জন কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন তিনজন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স