ইরান যুদ্ধের কারণে অস্ত্র ঘাটতির কথা স্বীকার করলেন ট্রাম্প
আপলোড সময় :
০২-১০-২০২৬ ০১:৩০:০৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
০২-১০-২০২৬ ০১:৩০:০৫ অপরাহ্ন
ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদের সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে শিগগিরই এই ঘাটতি পূরণ করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
আজ শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিখ্যাত সাময়িকী ‘টাইমে’ প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে একথা বলেন ট্রাম্প।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র বাহিনী বিপুল পরিমাণ দূরপাল্লার ভূমিতে হামলা পরিচালনাকারী ক্ষেপণাস্ত্র এবং আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ‘ইন্টারসেপ্টর’ ব্যবহার করেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের’ জুলাই মাসের এক মূল্যায়নে বলা হয়, প্যাট্রিয়ট এবং থাডের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা অর্ধেকেরও বেশি খালি হয়ে গেছে। এর আগে জুলাইয়ের মাঝামাঝি পেন্টাগনের ইন্সপেক্টর জেনারেলের এক রিপোর্টেও অস্ত্র ঘাটতি ও সরবরাহের ধীরগতির চিত্র উঠে এসেছিল। তখন এটিকে ‘ভুয়া খবর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
তবে টাইমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প অস্ত্রসংকটের বিষয়টি আংশিক স্বীকার করে বলেন, কিছু ধরনের গোলাবারুদের মজুত অন্যগুলোর তুলনায় কিছুটা কমেছে। তবে আমাদের কাছে মাঝারি ও উচ্চ-মাঝারি মানের অত্যন্ত শক্তিশালী অস্ত্র এখনও প্রচুর রয়েছে।
তিনি বিস্তারিত উল্লেখ না করলেও জানান, সংকট মেটাতে মার্কিন অস্ত্র প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলো সারাদেশে প্যাট্রিয়ট ও থাড ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য নতুন নতুন কারখানা স্থাপন করছে।
নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে প্রভাব
ইরান যুদ্ধ ইতোমধ্যে জয় করে ফেলেছেন বলে আগে দাবি করলেও সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে আবার বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা জোরদার করা হতে পারে। সম্প্রতি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে ইরান থেকে আসা প্রস্তাব তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এদিকে, এই অজনপ্রিয় যুদ্ধের কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)-এনওআরসি সেন্টার পরিচালিত সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ট্রাম্পের অর্থনীতি পরিচালনার নীতিতে মাত্র ২৬ শতাংশ আমেরিকান আস্থা রাখছেন, যা তার মেয়াদে সর্বনিম্ন। তবে জনমত জরিপের এই পরিসংখ্যানকে ‘ভুয়া সংখ্যা’ বলে আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রচারণায় অংশ নিয়ে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থীরা জয়ী করতে সক্ষম হবেন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24
কমেন্ট বক্স