ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ঘুম কি যথেষ্ট?

আপলোড সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ১২:০৭:০০ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২৯-০৯-২০২৬ ১২:০৭:০০ অপরাহ্ন
প্রতিদিন ৬ ঘণ্টা ঘুম কি যথেষ্ট? ফাইল ছবি
বাংলা রিলিজ, লাইফস্টাইল ডেস্ক:  ঘুম শুধু শরীরের বিশ্রামের সময় নয়। ঘুমের মধ্যেই মস্তিষ্কের নানা গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া চলে, শরীর নিজেকে পুনরুদ্ধার করে এবং দিনের কাজের পর বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিশ্রামের সুযোগ পায়। তারপরও অনেক প্রাপ্তবয়স্ক নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়ে মনে করেন, তাঁরা এতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো—প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ঘুম কি যথেষ্ট?
বিশেষজ্ঞদের সুপারিশ অনুযায়ী, বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের নিয়মিতভাবে অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্রের রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য প্রতিদিন সাত ঘণ্টা বা তার বেশি ঘুমের পরামর্শ দেয়। ৬১ থেকে ৬৪ বছর বয়সীদের জন্য সাত থেকে নয় ঘণ্টা এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য সাত থেকে আট ঘণ্টা ঘুমের পরামর্শ দেওয়া হয়।

সিডিসির সুপারিশ অনুযায়ী বয়সভেদে দৈনিক ঘুমের প্রয়োজনীয়তা হলো—

০–৩ মাস: ১৪–১৭ ঘণ্টা
৪–১২ মাস: ১২–১৬ ঘণ্টা
১–২ বছর: ১১–১৪ ঘণ্টা
৩–৫ বছর: ১০–১৩ ঘণ্টা
৬–১২ বছর: ৯–১২ ঘণ্টা
১৩–১৭ বছর: ৮–১০ ঘণ্টা
১৮–৬০ বছর: অন্তত ৭ ঘণ্টা
৬১–৬৪ বছর: ৭–৯ ঘণ্টা
৬৫ বছর বা বেশি: ৭–৮ ঘণ্টা
অর্থাৎ, নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুম বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য সুপারিশকৃত সময়ের চেয়ে কম।

ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েও ক্লান্ত লাগে না কেন?

প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ঘুমানোর পরও কেউ কেউ মনে করতে পারেন যে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই কাজ করতে পারছেন। এর একটি কারণ হতে পারে অভ্যাস। নিয়মিত কম ঘুমালে ঘুমের ঘাটতির অনুভূতি সব সময় স্পষ্টভাবে বোঝা নাও যেতে পারে। কিন্তু ক্লান্তি কম অনুভূত হওয়া মানেই শরীরের প্রয়োজনীয় ঘুম পূরণ হয়ে গেছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
আবার খুব অল্পসংখ্যক মানুষের মধ্যে এমন জিনগত বৈশিষ্ট্য দেখা যায়, যার কারণে তাঁরা স্বাভাবিকভাবেই কম ঘুমিয়েও তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে কাজ করতে পারেন। তবে এ ধরনের স্বাভাবিক স্বল্পঘুমন্ত মানুষ বিরল।

নিয়মিত ছয় ঘণ্টা ঘুমালে কী হতে পারে?

এক-দুই দিন কম ঘুমানোর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কম ঘুমানোর প্রভাব এক নয়। নিয়মিত সাত ঘণ্টার কম ঘুমকে অপর্যাপ্ত ঘুম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের সুপারিশে দীর্ঘদিন অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে ওজন বৃদ্ধি, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, বিষণ্নতা, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
অপর্যাপ্ত ঘুমের সঙ্গে আরও যেসব সমস্যা সম্পর্কিত, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—

মনোযোগ ও কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া
স্মৃতিশক্তি ও শেখার ক্ষমতায় নেতিবাচক প্রভাব
সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমস্যা
মেজাজের পরিবর্তন
রোগ প্রতিরোধক্ষমতায় প্রভাব
দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি
শুধু সময় নয়, ঘুমের মানও গুরুত্বপূর্ণ
পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেই ঘুম ভালো হয়েছে—এমন নয়। নিয়মিত সময়ে ঘুমানো, ঘুমের মান ভালো থাকা এবং ঘুমের মধ্যে বারবার জেগে না ওঠাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা স্বাস্থ্যকর ঘুমের ক্ষেত্রে সময়ের পাশাপাশি নিয়মিততা, ঘুমের সময় এবং ঘুমের মানের ওপরও গুরুত্ব দেন।
তাই প্রতিদিন ছয় ঘণ্টা ঘুমিয়েই শরীর ঠিকঠাক চলছে মনে হলেও সেটিকে দীর্ঘমেয়াদি অভ্যাস হিসেবে নেওয়া ঠিক নয়। বেশিরভাগ প্রাপ্তবয়স্কের জন্য নিয়মিত অন্তত সাত ঘণ্টা ঘুমের লক্ষ্য রাখা ভালো। নিয়মিত পর্যাপ্ত সময় ঘুমানোর পরও যদি অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব, ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যা থাকে, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Bangla Release 24

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ